Tuesday, May 19, 2015


মন-মন্দিরে মণি-দীপ জ্বালি
আরতি যাঁহার করিছ নিতি,
ধূপ-সৌরভে মন্দিরতল
সুরভিত করি ঢালিয়া প্রীতি,
ভকতি কুসুমে প্রেম চন্দনে 
ভরি দাও যাঁর চরণতল,
জনকের মাঝে দেখিলে তাঁহাকে
তবে তুই পাবি পূজার ফল।




Friday, April 24, 2015


ওঁ সর্বেষাং মঙ্গলং ভূয়াৎ সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।
সর্বে ভদ্রাণি পশ্যন্তু মা কশ্চিৎ দুঃখভাগ্‌ ভবেৎ।।
অসতো মা সদ্‌গময়।।
তমসো মা জ্যোতির্গময়।।
মৃত্যোর্মা অমৃতংগময়।

অসত্যের পথ হতে হে দয়াল!
নিয়ে চল সদা সত্য পথে,
অবিদ্যা তিমির ভেদি
নিয়ে চল জ্যোতির সাক্ষাতে
মৃত্যু পথ হতে নিয়ে চল,
যেথা আছে অমৃতের ধাম।
হে সত্য! অমৃত জ্যোতিঃ!
লহ মোর প্রাণের প্রণাম।।


ওঁ  হিরন্ময়েন পাত্রেন, সত্যস্যাপিহিতম্‌ মুখম্‌।
তৎ তং পুষণ্! অপাবৃণু, সত্যধর্মায় দৃষ্টয়ে।।

হে সবিতা! তোমার কল্যাণতম রূপ,
করো অপাবৃত।
সেই দিব্য আবির্ভাবে হেরি আমি,
আপন আত্মারে,
মৃত্যুর অতীত।।


ওঁ আণোরণীয়ান্‌ মহতো মহীয়ান্‌ আত্মাহস্য জন্তো নির্হিতো গুহায়াম।
তম্‌ অক্রতুম্‌ পশ্যতি বীতশোকো, ধাতু প্রসাদাৎ  মহিমানম্‌  ঈশম্‌।।
বেদাহমেতম্‌  অজরং পুরাণম্‌, সর্বাত্মানম্‌  সর্বগতম্‌  বিভূত্বাৎ।
জন্মনিরোধং  প্রবদন্তি  যস্য, আনন্দরূপপম্‌  অমৃতম্‌  যদ্‌  বিভাতি।।

ধূলির আসনে বসি,
ভূমারে দেখেছি ধ্যান চোখে,
আলোকের অতীত আলোকে।
অণু হতে অণীয়ান্‌
মহৎ হতে মহীয়ান্‌ ---
ইন্দ্রিয়ের পারে তার 
পেয়েছি সন্ধান।
ক্ষণে ক্ষণে দেখিয়াছি ---
দেহের ভেদিয়া যবনিকা।

Wednesday, April 15, 2015


"তপোভূমি নর্মদা"র পক্ষ থেকে সমস্ত পাঠককে জানাই "শুভ নববর্ষের" শুভেচ্ছা।
"শুভ নববর্ষ ১৪২২"

Wednesday, February 4, 2015

শ্রীরঙ্গনাথের সাধক যামুনাচার্য ---


ভক্তিবাদের স্তম্ভস্বরূপ বিশিষ্টাদ্বৈতবাদের শ্রেষ্ঠ আচার্য যামুনাচার্যের জীবন কাহিনী বড়ই চিত্তাকর্ষক। তিনি দক্ষিণ ভারতের মাদুরাই -এর এক বিখ্যাত বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে ৯৫৩ খৃঃ আষাঢ় মাসে উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্রে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীসম্প্রদায়ের মতে ইনি শ্রীনারায়ণের সিংহাসনের অংশাবতার। আচার্য নাথমুনি ছিলেন তাঁর পিতামহ। দাক্ষিণাত্যের শ্রীরঙ্গনাথের কৃপাধন্য যামুনাচার্যের পিতার নাম ঈশ্বরমুনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধা ও প্রতিভার অধিকারী। তাঁর গুরু ছিলেন ভাষ্যাচার্য। ঈশ্বরদত্ত প্রতিভায় মাত্র বারো বছর বয়সে তিনি শাস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন।


সেই সময় দাক্ষিণাত্যের পাণ্ড্য রাজ্যের সভা আলো করেছিলেন পণ্ডিত শিরোমণি বিদ্বজ্জন কোলাহল। সারা দেশে শ্রেষ্ঠ শাস্ত্রবিদ্‌রা প্রায় সকলেই তাঁর কাছে তর্কযুদ্ধে পরাজিত হয়েছেন। একদিন ভাষ্যাচার্যের অনুপস্থিতকালে পণ্ডিত শিরোমণির এক শিষ্য যামুনাচার্যের সামনে তাঁর গুরুর সম্বন্ধে অপমান সূচক মন্তব্য করলে বালক যামুনাচার্য পণ্ডিত শিরোমণিকে তর্কযুদ্ধে আহ্বান করেন। গুরু ফিরে এসে সব শুনে হাহাকার করে ওঠেন কারণ তিনিও কোলাহলকে গুরুর মতন শ্রদ্ধা করেন। তিনি যামুনাচার্যকে নানাভাবে বুঝিয়ে কোলাহলের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে বলেন। কিন্তু যামুনাচার্য অনড়। তিনি কিছুতেই তাঁর গুরুর অপমান সহ্য করতে পারবেন না। তিনি গুরুর কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেন। গুরু ভাষ্যাচার্য যামুনাচার্যকে আশীর্বাদ করলেন বটে কিন্তু মনে মনে ভাবলেন একমাত্র দৈবী কৃপাই যামুনাচার্যকে রক্ষা করবে। 


পণ্ডিত শিরোমণি বিদ্বজ্জন কোলাহলকে তর্কযুদ্ধে আহ্বান করেছে এক বারো বছরের বালক --- এই সংবাদ দাবানলের মত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সকলেই ধরে নিয়েছিলেন যামুনাচার্যের পরাজয় শুধু সময়ের অপেক্ষামাত্র। কারণ বালক যামুনাচার্য কোলাহলের সামনেই মূর্চ্ছা যাবেন। যথাসময়ে পাণ্ড্য রাজের সভাপতিত্বে তর্ক সভা শুরু হল। রাজসভায় তিল ধারণের স্থান নেই। সকলেই অধীর প্রতীক্ষায় অপেক্ষমান। 


যামুনাচার্যকে দেখে দিগ্বিজয়ী পণ্ডিতের চোখে মুখে ঝরে পড়ে তাচ্ছিল্য। কোলাহল জিঞ্জাসা করেন --- আল্‌ওয়ান্দারা? এই বালক আমাকে জয় করতে চায়। একে অপরকে প্রশ্ন বাণে জর্জরিত করতে চান। কিন্তু কেউই কম যান না। সারা সভা স্তম্ভিত, হতচকিত। এমন সময় যামুনাচার্য উঠে দাঁড়িয়ে বললেন --- আমি আচার্য কোলাহলকে তিনটি প্রশ্ন করতে চাই ---


1. আপনার মাতা বন্ধ্যা নন, খণ্ডন করুন।

2. পাণ্ড্যরাজ মহাধর্মশীল নন, খণ্ডন করুন।
3. মহারাণী সাবিত্রীর ন্যায় সাধ্বী --- এ মত খণ্ডন করুন।

আচার্য কোলাহল এই উদ্ভট প্রশ্নে বিভ্রান্ত। তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন। রাজসভায় শুরু হয় গুঞ্জন। যামুনাচার্য বলতে শুরু করেন ---


মনু বলেছেন, এক পুত্র অপুত্রের মধ্যে গণ্য এজন্য দ্বিতীয় পুত্র উৎপাদন করা প্রয়োজন। মেধাতিথিও তাঁর ভাষ্যে বলেছেন --- অপুত্রঃ এক পুত্র ইতি শিষ্ঠ প্রবাদাৎ। অর্থাৎ আচার্য কোলাহলের মা একমাত্র পুত্রের জননী তাই তিনি বন্ধ্যা। যেমন কূট প্রশ্ন, তেমনি কৌশল পূর্ণ খণ্ডন।


যামুনাচার্যের দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে বলেন কলিতে ধর্ম একপাদ, অধর্ম ত্রিপাদ।


রাজা কর্তৃক রক্ষিত প্রজারা যে সকল ধর্ম কর্ম করে, রাজা তার ষষ্ঠাংশ প্রাপ্ত হন এবং রাজা যাদের রক্ষা করেন না তারা যে অধর্ম করে তার ষড়ভাগ রাজা প্রাপ্ত হন। কাজেই রাজা যতই সুশাসক হোন না কেন, প্রজাদের পাপের প্রাবল্য হেতু অধিক পাপ বহন করতে হয়, এই দৃষ্টিতে পাণ্ড্য রাজ মহাধর্মশীল নন।


অতঃপর যামুনাচার্য তাঁর তৃতীয় প্রশ্নের উত্তরে বলেন --- রাজা যখন অগ্নিও বটেন, সূর্যও বটেন, চন্দ্র, কুবের, ইন্দ্রও বটেন, তাহলে মহারাণী কেবল যে রাজারই পাণিগৃহীতা তা বলি কেমন করে?


বালক যামুনাচার্যের পাণ্ডিত্য ও শাণিত বুদ্ধির ঔজ্জ্বল্যে সবাই চমৎকৃত। সকলেই হৃদয়ঙ্গম করলেন শাস্ত্র ব্যাখ্যা, কূটবুদ্ধি ও চাতুর্যে তিনি অপরাজেয়। চারিদিক ধ্বনিত হতে থাকে বালক পণ্ডিত যামুনের জয়ধ্বনি।



বৌদ্ধ ও শঙ্কর যুগের পর শ্রেষ্ঠ ভক্তিবাদী আচার্য রূপে যামুনাচার্যের আবির্ভাব ঘটে।

পাণ্ড্যরাজ বালক যামুনকে দান করলেন রাজ্যের অর্ধাংশ। এই রাজ্য লাভ করে এর শাসনকার্যেও যামুন অসাধারণ যোগ্যতার পরিচয় প্রদান করেন। রাজকার্যে ব্যাপৃত নবীন পণ্ডিত উপনীত হন যৌবনে, ভুলে যান তাঁর তপোনিষ্ঠ, সাত্ত্বিকী আচারের কথা। ইতিমধ্যে পিতা ঈশ্বরমুনি গত হয়েছেন। ক্রমে পিতামহ নাথমুনিরও মহাপ্রয়াণ আসন্ন কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে নাথমুনি তাঁর প্রিয় শিষ্য রামমিশ্র বা মানাক্কাল নম্বিকে আদেশ দেন--- যে করেই হোক ঈশ্বর প্রেরিত মহাসাধক রাজা যামুনকে রাজ্যপাঠের গণ্ডী থেকে বের করে তাকে চিনিয়ে দিতে হবে তার স্বরূপ। তার সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করতে, একমাত্র তুমিই পারবে। তাকে নিয়ে আসতে হবে শ্রীরঙ্গনাথের চরণতলে।


নম্বি গুরুর আদেশ শিরোধার্য করে এসে উপস্থিত হয় যামুনের রাজধানীতে। রাজা যামুন সাদরে আপ্যায়ন করেন শ্রীরঙ্গমের সাধককে। কিন্তু নম্বির সঙ্গে কথা বলার সময় নেই রাজার। এভাবে কিছুকাল কাটলে, নম্বি জানতে পারেন রাজার সৈন্যদল পুনর্গঠনের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। নম্বি এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলেন না। তিনি নিভৃতে রাজাকে জানান --- তাঁর পিতামহ আচার্য নাথমুনি সন্ন্যাস গ্রহণের পর দৈবী কৃপায় বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হন। তিনি মৃত্যুর পূর্বে সেই বিশাল সম্পত্তির দায়িত্বভার আপনাকে দিয়ে যেতে চান। তাই তিনি আপনার হাতে সম্পত্তি অর্পণের জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন আপনাকে সঙ্গে করে শ্রীরঙ্গমে নিয়ে যাবার জন্য। কিন্তু শর্ত একটাই, আপনাকে গোপনে ও ছদ্মবেশে আমার সঙ্গে একা যেতে হবে। 



একদিন গভীর রাত্রে রাজা নম্বির সঙ্গে গোপনে ত্যাগ করলেন রাজপ্রাসাদ, পদব্রজে যাত্রা করলেন পূণ্যভূমি শ্রীরঙ্গমের দিকে। সপ্তম দিনে উভয়েই পৌঁছে গেলেন শ্রীরঙ্গমে। কাবেরীতে স্নান তর্পণ সেরে নম্বি যামুনকে উপস্থিত করলেন শ্রীরঙ্গনাথজীর বিগ্রহ সম্মুখে। বললেন --- ইনি হলেন আপনার দাদু নাথমুনির গুপ্ত ভাণ্ডার। আমি আপনার কাছে এবং গুরুর কাছে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা আজ রক্ষিত হল।

কিন্তু বিগ্রহ দর্শনের সঙ্গে সঙ্গে এক অনাস্বাদিত পূর্বে আনন্দের শিহরণ বয়ে গেল রাজা যামুনের শিরা ধমনীতে, তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে। স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে নতজানু হয়ে রঙ্গনাথজীর জ্যোতির্ময় মূর্তি দর্শন করতে করতে তিনি হলেন মূর্ছিত। যখন তাঁর মূর্ছা ভাঙল তখন তিনি অন্য মানুষ। প্রভু রঙ্গনাথের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি স্তব করতে লাগলেন ---



নিমজ্জিতোহনন্ত ভবার্ণবান্তঃ চিরায় মে কুলমিবাসি লব্ধঃ
ত্বয়াপি লব্ধং ভগবন্নিদানীং অনুত্তমং পাত্রামিদং দয়ায়াঃ।।

অনন্ত সংসার সাগরে বহুকাল ধরে ডুবতে ডুবতে অবশেষে কুলস্বরূপ তোমাকে পেয়েছি। তুমিও এক্ষণে অত্যুৎকৃষ্ট দয়ার পাত্র পেয়েছ?



অপরাধ সহস্রভাজনং পতিতং ভীমভবার্ণবোদরে
অগতিং শরণাগতং হরে, কৃপয়া কেবলমাত্মসাৎ কুরু।


আমি সহস্র অপরাধের অনুষ্ঠাতা, ভীষণ ভবসমুদ্রে পতিত। নিরুপায় হয়ে আমি তোমারই চরণাশ্রিত হতে চাই।

সমস্ত রাজ ঐশ্বর্য ত্যাগ করে তিনি নিলেন সন্ন্যাস। তাঁর যাত্রা শুরু হল প্রেম, ভক্তি ও ইষ্টপ্রাপ্তির পথে। শ্রীরঙ্গনাথের সেবা পূজায় মন, প্রাণ সমর্পণ করলেন সাধক যামুন। যামুন ভক্তিপথে আগমনের অতি অল্পকালের মধ্যে শ্রীসম্প্রদায়ের আচার্য পদে অধিষ্ঠিত হয়ে শ্রীসম্প্রদায়ে নতুন জীবনের সঞ্চার করেন। কয়েক বছরের মধ্যে এই ভক্তিস্নিগ্ধ মহাপুরুষের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল সারা দাক্ষিণাত্যে। পিতামহ নাথমুনি বিশিষ্টাদ্বৈতবাদের যে দার্শনিকতার প্রবর্তন করেন, সাধক যামুনাচার্য তার ভিত্তিকে করলেন সুদৃঢ়।


যামুনাচার্যের গ্রন্থ সমূহের মধ্যে প্রধান হল --- সিদ্ধিত্রয়ম। গৌড়বাদের মাণ্ডুক্যকারিকা স্বাধ্যায় করলে যেমন আচার্য শঙ্করের অভিপ্রায় বুঝতে অসুবিধা হয় না তেমনি যামুনাচার্যের এই গ্রন্থ স্বাধ্যায় করলে আচার্য রামানুজের গ্রন্থাবলীর মর্মকথা সহজে উপলব্ধি করা যায়। এছাড়া অন্যান্য গ্রন্থগুলি হল স্তোত্ররত্নম, আগম প্রমাণ্যম ও গীতার্থ সংগ্রহ।


https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191







Wednesday, January 21, 2015

দেবাদিদেব অষ্টমূর্তিময় ---


ঋষিরা ধ্যান দৃষ্টিতে মহাদেবের অষ্টমূর্তিকে দেখেছেন ---



"ওঁ ভবঃ শর্বো রুদ্রঃ পশুপতিরথোগ্রঃ সহমহান্‌
তথা ভীমেশানাবিতি যদভিধানাষ্টক মিদম্‌।
অমুষ্মিন্‌ প্রত্যেকং প্রবিচরতি দেবশ্রুতিরপি
প্রিয়ায়াস্মৈ ধাম্নে প্রণিহিতনমমস্যোহস্মি ভবতে।

হে মহেশ্বর! তুমি জটাজূটধারী, সমস্ত প্রাণীর অধীশ্বর, তৃতীয় নয়ন দিয়ে মদনকে ভষ্ম করেছ। হে নীলকণ্ঠ! তুমি দেবগণের পরম দেবতা, প্রভুগণের পরম প্রভু, নিয়ন্তাদের পরম নিয়ন্তা, ব্রহ্মাদি সৃষ্টি কর্তাদের মধ্যে প্রধান, ত্রিলোচন, সর্বব্যাপক, দেবগণেরও গতি তুমি। তুমি বিদ্যা অবিদ্যার অতীত, নিত্য স্তবনীয়, পরম পূজ্য, স্বয়ং জ্যোতি। দেবদানব মনুষ্য সমন্বিত সমগ্র জগতের দ্বারা নমস্কৃত হে অজেয় পুরুষ! তুমি একাধারে বিষ্ণুরূপী শিব এবং শিবরূপী বিষ্ণু। দক্ষযঞ্জ বিনাশকারী হে বীরভদ্র! তুমি ললাটনেত্র অর্থাৎ মহাযোগীদের ধ্যানলভ্য তৃতীয় নেত্রস্বরূপ, জগতের সৃষ্টি ও সংহারকর্তা, শূলপাণি, পিনাকধনুর্ধারী মঙ্গলময় বিধাতা।


যখন অঞ্জান নিবৃত্ত হয়, দিবা বা রাত্রি থাকে না, কার্য বা কারণ থাকে না, একমাত্র স্বয়ং জ্যোতিস্বরূপ জগদীশ্বর মহাদেব নির্বিকারভাবে বিরাজমান থাকেন। তিনি নিত্য, সূর্যের বরেণ্য, তাঁর থেকেই অনাদিসিদ্ধ আত্মবিদ্যা নির্গত হয়েছে। তিনি প্রমথদের অধিপতি, জগতের মঙ্গল বিধানকারী, সৃষ্টিকর্তাদেরও সৃষ্টিকর্তা, প্রকৃতি পুরুষের অতীত, শ্রেষ্ঠদের মধ্যেও শ্রেষ্ঠ, পরমসূক্ষ্ম তুরীয় ব্রহ্মস্বরূপ এ জগৎ তাঁরই সৃষ্টি। তিনি সূর্য, তিনি চন্দ্র, তিনি পবন, তিনি অগ্নি, তিনি জল, তিনি আকাশ, তিনি পৃথিবী এবং তিনি আত্মা --- এই জগতে এমন কোন তত্ত্ব নেই, যা তিনি নন। মহাদেবের স্বরূপ ব্যাখ্যায় বেদ সম্পূর্ণরূপে সচেষ্ট। 


তিনি  পরমাত্মা বা ব্রহ্মেরই নামান্তর। তিনি "শান্তং শিবং অদ্বৈতং"। শিবই বিশ্বাদ্যং বিশ্ববীজং --- তিনি বিশ্বদেব, বিশ্বরূপ, বিশ্বাতিগ, বিশ্বান্তর্যামী। শিবপুরাণে মহাদেবের উক্তি ---



"অহম্‌ শিবঃ শিবশ্চাহং ত্বঞ্চাপি শিব এব চ।
সর্বং শিবময়ং ব্রহ্মণ্ শিবাৎ পরং ন কিঞ্চন ।।"

অর্থাৎ আমি শিব, তুমিও শিব, সমস্তই  শিবময়। শিব ভিন্ন অপর কিছুই নেই। দেবাদিদেব অষ্টমূর্তিময়। তিনিই অষ্টমূর্তি সূত্রে মণিগণের ন্যায় নিখিল জগৎ ব্যাপ্ত করে রয়েছেন। মহাদেবের অষ্টমূর্তির নাম --- শর্ব, ভব, রুদ্র, উগ্র, ভীম, পশুপতি, মহাদেব ও ঈশান।



"অষ্টমূর্তাত্মনা বিশ্বং অধিষ্ঠায় স্থিতং শিবং
ভজস্ব সর্বভাবেন রুদ্রং পরম কারণং।।"

এই অষ্টমূর্তির দ্বারা বিশ্বে অধিষ্ঠিত পরম কারণ  ভগবানকে সর্বতোভাবে ভজনা করা হয়। 

পুণ্যভূমি ভারতবর্ষে মহাদেবের অষ্টমূর্তির স্বতন্ত্র তীর্থ আছে।


1. সূর্যমূর্তি --- সূর্য প্রত্যক্ষ দেবতা। উদয়াস্ত আকাশ পথে যাঁর দ্যুতির প্রকাশ দেখি, তিনি স্বরূপতঃ শিব ছাড়া আর কেউ নন।



"আদিত্যঞ্চ শিবং বিদ্যাৎ শিবমাদিত্য রূপিনং।
উভয়োরন্তরং নাস্তি আদিত্যস্য শিবস্য চ।।

অর্থাৎ শিবে এবং সূর্যে কোন ভেদ নেই। সূর্যমন্দির মাত্রেই শিবমন্দির আর শিবমন্দির মাত্রেই সূর্যমন্দির।

2. চন্দ্র --- চন্দ্রও শিবের এক মূর্তি। গুজরাটের সোমনাথ এবং বাংলার  চন্দ্রনাথ --- মহাদেবের সোমমূর্তির তীর্থ। 

3. নেপালের পঞ্চমুখ পশুপতিনাথ --- মহাদেবের যজমান মূর্তির তীর্থ।

বাকী পাঁচটি তীর্থ মাদ্রাজ অঞ্চলে অবস্থিত। এগুলি অতি প্রাচীন ও পবিত্র তীর্থ। এই মন্দিরগুলির কারুকার্যময় বিশাল বিশাল স্তম্ভ মণ্ডপ, বিমল সলিল পূর্ণ সরোবর প্রভৃতি দ্রাবিড় স্থাপত্যের নিদর্শন। দাক্ষিণাত্যে ৬৩ জন শিবভক্ত আবির্ভূত হয়েছিলেন। যাঁদেরকে আদিয়ার বলা হয়। তাঁদের রচিত তামিল প্রবন্ধম্‌ দ্রাবিড়দের নামে প্রসিদ্ধ। শিব ভক্তগণের লীলাক্ষেত্র এইসব তীর্থ।


4. শিবকাঞ্চিতে একাম্বরেশ্বর --- ক্ষিতিমূর্তির তীর্থ।


5. মাদ্রাজের ত্রিচিনপল্লী জেলায় শ্রীরঙ্গম তীর্থের সন্নিকটে জম্বুকেশ্বর --- অপ্‌ মূর্তির তীর্থ। এখানে লিঙ্গমূলে একটি জলের উৎস আছে। মন্দিরে সর্বদাই জলধারা প্রবাহিত হচ্ছে।  


6. দক্ষিণে আর্কট জেলায় তিরুভান্নামালাই বা অরুণাচল তীর্থে --- মহাদেবের তেজোমূর্তির তীর্থ।


7. উত্তর আর্কট জেলায় কালাহস্তীশ্বর মহাদেব --- বায়ুমূর্তির তীর্থ।


8. চিদাম্বরম্‌ --- আকাশ মূর্তির তীর্থ। সেখানকার মূল মন্দিরে কোন বিগ্রহ নেই। আকাশেই পূজা হয়। পৃথক একটি গৌণ মন্দিরে তাণ্ডব নৃত্যকারী চিদাম্বরেশ্বরের মনোরম নটরাজ মূর্তি বিরাজমান আছেন।



অসিতগিরিসমং স্যাৎ কজ্জ্বলং সিন্ধুপাত্রং সুর তরুরব শাখা লেখনী পত্রমুর্খী।
লিখতি যদি গৃহীত্বা সারদা সর্বকালং তদপি তব গুণানামীশ পারং ন যাতি।।

অর্থাৎ নীল পর্বত যদি কালি হয়, সাগর যদি মসীপাত্র হয়, পারিজাত বৃক্ষের শাখা যদি কলম হয়, পৃথিবী যদি লিখবার পাত্র হয় আর এই সমস্ত বস্তু নিয়ে সরস্বতী যদি চিরকাল ধরে লিখতে থাকেন, তথাপি হে ঈশ্বর তোমার গুণসমূহের ইয়ত্তা পাওয়া যাবে না।"

https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191



Tuesday, January 6, 2015


ওগো  আমার  শিবসুন্দর! হিয়ায়  এসে  নিজে
গড়ো  আমার  জপমালা  তোমার  নাম-বীজে।
অশ্রু-সূতে  গাঁথো  আমার  প্রেমের  জপদাম
ঘুরুক  আঙুল  গুণে  গুণে  রেবা  শিব  রাম।।
মনের  সাথে  এই  রসনা  রসুক  নাম- রসে
মন্ত্র  তোমার  হৃদযন্ত্রে  চলুক  প্রেমবশে।
নাচুক  আমার পাগল  হিয়া  নাচুক  আমার  মন,
নাচুক  আমার  ভাবালহরি  আনন্দ-মগন।
জিহ্বা  আমার  উঠুক  নেচে  নামের  রসে  ভোর,
নাচুক  আমার  করাঙ্গুলে  জপমালার  ডোর।
নাচুক  আমার  চোখের  তারা  ঊর্ধ্বে  নাচুক  হাত,
নাচুক  আমার  চরণ  দুটির  প্রতি  পদপাত।
ঠোঁটে  আমার  নাচুক  হাসি  নিতে  তোমার  নাম,
আনন্দেরি  অশ্রু  চোখে  ঝরুক  অবিরাম।।

Thursday, January 1, 2015