Wednesday, January 21, 2015

দেবাদিদেব অষ্টমূর্তিময় ---


ঋষিরা ধ্যান দৃষ্টিতে মহাদেবের অষ্টমূর্তিকে দেখেছেন ---



"ওঁ ভবঃ শর্বো রুদ্রঃ পশুপতিরথোগ্রঃ সহমহান্‌
তথা ভীমেশানাবিতি যদভিধানাষ্টক মিদম্‌।
অমুষ্মিন্‌ প্রত্যেকং প্রবিচরতি দেবশ্রুতিরপি
প্রিয়ায়াস্মৈ ধাম্নে প্রণিহিতনমমস্যোহস্মি ভবতে।

হে মহেশ্বর! তুমি জটাজূটধারী, সমস্ত প্রাণীর অধীশ্বর, তৃতীয় নয়ন দিয়ে মদনকে ভষ্ম করেছ। হে নীলকণ্ঠ! তুমি দেবগণের পরম দেবতা, প্রভুগণের পরম প্রভু, নিয়ন্তাদের পরম নিয়ন্তা, ব্রহ্মাদি সৃষ্টি কর্তাদের মধ্যে প্রধান, ত্রিলোচন, সর্বব্যাপক, দেবগণেরও গতি তুমি। তুমি বিদ্যা অবিদ্যার অতীত, নিত্য স্তবনীয়, পরম পূজ্য, স্বয়ং জ্যোতি। দেবদানব মনুষ্য সমন্বিত সমগ্র জগতের দ্বারা নমস্কৃত হে অজেয় পুরুষ! তুমি একাধারে বিষ্ণুরূপী শিব এবং শিবরূপী বিষ্ণু। দক্ষযঞ্জ বিনাশকারী হে বীরভদ্র! তুমি ললাটনেত্র অর্থাৎ মহাযোগীদের ধ্যানলভ্য তৃতীয় নেত্রস্বরূপ, জগতের সৃষ্টি ও সংহারকর্তা, শূলপাণি, পিনাকধনুর্ধারী মঙ্গলময় বিধাতা।


যখন অঞ্জান নিবৃত্ত হয়, দিবা বা রাত্রি থাকে না, কার্য বা কারণ থাকে না, একমাত্র স্বয়ং জ্যোতিস্বরূপ জগদীশ্বর মহাদেব নির্বিকারভাবে বিরাজমান থাকেন। তিনি নিত্য, সূর্যের বরেণ্য, তাঁর থেকেই অনাদিসিদ্ধ আত্মবিদ্যা নির্গত হয়েছে। তিনি প্রমথদের অধিপতি, জগতের মঙ্গল বিধানকারী, সৃষ্টিকর্তাদেরও সৃষ্টিকর্তা, প্রকৃতি পুরুষের অতীত, শ্রেষ্ঠদের মধ্যেও শ্রেষ্ঠ, পরমসূক্ষ্ম তুরীয় ব্রহ্মস্বরূপ এ জগৎ তাঁরই সৃষ্টি। তিনি সূর্য, তিনি চন্দ্র, তিনি পবন, তিনি অগ্নি, তিনি জল, তিনি আকাশ, তিনি পৃথিবী এবং তিনি আত্মা --- এই জগতে এমন কোন তত্ত্ব নেই, যা তিনি নন। মহাদেবের স্বরূপ ব্যাখ্যায় বেদ সম্পূর্ণরূপে সচেষ্ট। 


তিনি  পরমাত্মা বা ব্রহ্মেরই নামান্তর। তিনি "শান্তং শিবং অদ্বৈতং"। শিবই বিশ্বাদ্যং বিশ্ববীজং --- তিনি বিশ্বদেব, বিশ্বরূপ, বিশ্বাতিগ, বিশ্বান্তর্যামী। শিবপুরাণে মহাদেবের উক্তি ---



"অহম্‌ শিবঃ শিবশ্চাহং ত্বঞ্চাপি শিব এব চ।
সর্বং শিবময়ং ব্রহ্মণ্ শিবাৎ পরং ন কিঞ্চন ।।"

অর্থাৎ আমি শিব, তুমিও শিব, সমস্তই  শিবময়। শিব ভিন্ন অপর কিছুই নেই। দেবাদিদেব অষ্টমূর্তিময়। তিনিই অষ্টমূর্তি সূত্রে মণিগণের ন্যায় নিখিল জগৎ ব্যাপ্ত করে রয়েছেন। মহাদেবের অষ্টমূর্তির নাম --- শর্ব, ভব, রুদ্র, উগ্র, ভীম, পশুপতি, মহাদেব ও ঈশান।



"অষ্টমূর্তাত্মনা বিশ্বং অধিষ্ঠায় স্থিতং শিবং
ভজস্ব সর্বভাবেন রুদ্রং পরম কারণং।।"

এই অষ্টমূর্তির দ্বারা বিশ্বে অধিষ্ঠিত পরম কারণ  ভগবানকে সর্বতোভাবে ভজনা করা হয়। 

পুণ্যভূমি ভারতবর্ষে মহাদেবের অষ্টমূর্তির স্বতন্ত্র তীর্থ আছে।


1. সূর্যমূর্তি --- সূর্য প্রত্যক্ষ দেবতা। উদয়াস্ত আকাশ পথে যাঁর দ্যুতির প্রকাশ দেখি, তিনি স্বরূপতঃ শিব ছাড়া আর কেউ নন।



"আদিত্যঞ্চ শিবং বিদ্যাৎ শিবমাদিত্য রূপিনং।
উভয়োরন্তরং নাস্তি আদিত্যস্য শিবস্য চ।।

অর্থাৎ শিবে এবং সূর্যে কোন ভেদ নেই। সূর্যমন্দির মাত্রেই শিবমন্দির আর শিবমন্দির মাত্রেই সূর্যমন্দির।

2. চন্দ্র --- চন্দ্রও শিবের এক মূর্তি। গুজরাটের সোমনাথ এবং বাংলার  চন্দ্রনাথ --- মহাদেবের সোমমূর্তির তীর্থ। 

3. নেপালের পঞ্চমুখ পশুপতিনাথ --- মহাদেবের যজমান মূর্তির তীর্থ।

বাকী পাঁচটি তীর্থ মাদ্রাজ অঞ্চলে অবস্থিত। এগুলি অতি প্রাচীন ও পবিত্র তীর্থ। এই মন্দিরগুলির কারুকার্যময় বিশাল বিশাল স্তম্ভ মণ্ডপ, বিমল সলিল পূর্ণ সরোবর প্রভৃতি দ্রাবিড় স্থাপত্যের নিদর্শন। দাক্ষিণাত্যে ৬৩ জন শিবভক্ত আবির্ভূত হয়েছিলেন। যাঁদেরকে আদিয়ার বলা হয়। তাঁদের রচিত তামিল প্রবন্ধম্‌ দ্রাবিড়দের নামে প্রসিদ্ধ। শিব ভক্তগণের লীলাক্ষেত্র এইসব তীর্থ।


4. শিবকাঞ্চিতে একাম্বরেশ্বর --- ক্ষিতিমূর্তির তীর্থ।


5. মাদ্রাজের ত্রিচিনপল্লী জেলায় শ্রীরঙ্গম তীর্থের সন্নিকটে জম্বুকেশ্বর --- অপ্‌ মূর্তির তীর্থ। এখানে লিঙ্গমূলে একটি জলের উৎস আছে। মন্দিরে সর্বদাই জলধারা প্রবাহিত হচ্ছে।  


6. দক্ষিণে আর্কট জেলায় তিরুভান্নামালাই বা অরুণাচল তীর্থে --- মহাদেবের তেজোমূর্তির তীর্থ।


7. উত্তর আর্কট জেলায় কালাহস্তীশ্বর মহাদেব --- বায়ুমূর্তির তীর্থ।


8. চিদাম্বরম্‌ --- আকাশ মূর্তির তীর্থ। সেখানকার মূল মন্দিরে কোন বিগ্রহ নেই। আকাশেই পূজা হয়। পৃথক একটি গৌণ মন্দিরে তাণ্ডব নৃত্যকারী চিদাম্বরেশ্বরের মনোরম নটরাজ মূর্তি বিরাজমান আছেন।



অসিতগিরিসমং স্যাৎ কজ্জ্বলং সিন্ধুপাত্রং সুর তরুরব শাখা লেখনী পত্রমুর্খী।
লিখতি যদি গৃহীত্বা সারদা সর্বকালং তদপি তব গুণানামীশ পারং ন যাতি।।

অর্থাৎ নীল পর্বত যদি কালি হয়, সাগর যদি মসীপাত্র হয়, পারিজাত বৃক্ষের শাখা যদি কলম হয়, পৃথিবী যদি লিখবার পাত্র হয় আর এই সমস্ত বস্তু নিয়ে সরস্বতী যদি চিরকাল ধরে লিখতে থাকেন, তথাপি হে ঈশ্বর তোমার গুণসমূহের ইয়ত্তা পাওয়া যাবে না।"

https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191



Tuesday, January 6, 2015


ওগো  আমার  শিবসুন্দর! হিয়ায়  এসে  নিজে
গড়ো  আমার  জপমালা  তোমার  নাম-বীজে।
অশ্রু-সূতে  গাঁথো  আমার  প্রেমের  জপদাম
ঘুরুক  আঙুল  গুণে  গুণে  রেবা  শিব  রাম।।
মনের  সাথে  এই  রসনা  রসুক  নাম- রসে
মন্ত্র  তোমার  হৃদযন্ত্রে  চলুক  প্রেমবশে।
নাচুক  আমার পাগল  হিয়া  নাচুক  আমার  মন,
নাচুক  আমার  ভাবালহরি  আনন্দ-মগন।
জিহ্বা  আমার  উঠুক  নেচে  নামের  রসে  ভোর,
নাচুক  আমার  করাঙ্গুলে  জপমালার  ডোর।
নাচুক  আমার  চোখের  তারা  ঊর্ধ্বে  নাচুক  হাত,
নাচুক  আমার  চরণ  দুটির  প্রতি  পদপাত।
ঠোঁটে  আমার  নাচুক  হাসি  নিতে  তোমার  নাম,
আনন্দেরি  অশ্রু  চোখে  ঝরুক  অবিরাম।।

Thursday, January 1, 2015

Friday, December 19, 2014

সদ্‌গুরু:------


আমাদের  মাথার  চুলের  অস্তিত্ব  সম্বন্ধে  আমরা  যেমন  সবসময় সজাগ  থাকি  না, কিন্তু  কেউ  যদি  সন্তর্পণে  চুপি  চুপি  এসে  পিছন দিক  থেকে  একটা  চুল  টেনে  ধরে  তাহলে  যেমন  আমরা সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠি, তেমনি  সদ্‌গুরুর  সঙ্গে  শিষ্যের  সেইরকম নিকটতম সম্বন্ধ। শিষ্য  মাত্রই  সদ্‌গুরুর  যেন  মাথার  চুল!  হাজার হাজার মাইল  দূরেও যদি  শিষ্যের  কিছু  বিপদ  ঘটে, যথার্থ  সদ্‌গুরু হলে তিনি  সহজেই  সঙ্গে  সঙ্গে  তা  জানতে  পারবেন ।


শিষ্যের দেহ সদ্‌গুরুর সাধন মন্দির, তিনি শিষ্যের জন্য ক্রিয়া করেন, এটি গভীর উপলব্ধির কথা। দীক্ষালাভান্তে শিষ্যের কোন সংশয় থাকতে পারে না। সদ্‌গুরুকে শিষ্য চিন্তে পারে। দীক্ষালাভের পূর্বে সদ্‌গুরু চিনবার উপায় ---

1. সাপুড়ের সন্নিধানে, তার ঝুলিতে যে সমস্ত বিষঘ্ন লতাপাতা মূল থাকে, তার গন্ধ প্রভাবে বিষধর সর্প যেমন বশীভুত ও শান্ত হয়, তেমনি সদ্‌গুরুর সন্নিধানে উপবিষ্ট হলে মন যতই চঞ্চল, বিষন্ন চিন্তাগ্রস্ত, বিরক্ত, বিক্ষিপ্ত থাকুক না কেন সদ্‌গুরুর দেহ-নিংসৃত অদৃশ্য দিব্য জ্যোতিঃকণা এবং সুগন্ধে মন শান্ত ও স্থির হতে বাধ্য। সদ্‌গুরু শান্তিদাতা। 

2. জলের যেমন নিজস্ব কোন আকার নেই,  যে পাত্রে থাকে তার আকার ধারণ করে, তদ্রূপ সদগুরুর চিত্তবৃত্তি এবং মনোনাশ ঘটে বলে তার নিজস্ব কোন ভাবের লহর খেলে না। যে যেমন ভাবে উপস্থিত হবে লোকটির কর্ম অনুযায়ী তাঁর মধ্যে তদনুরূপ ভাব ও ভাষার প্রকাশ ঘটবে। ফলে সদগুরুরূপী আধারটির মধ্যে আকার, প্রকার, আচরণ, বৈখরীতে ক্ষণে ক্ষণে পটপরিবর্তন ঘটতে পারে। কখনও রুদ্ররূপ কখনও শান্ত প্রসন্ন মূর্তি। অত্যন্ত স্থূল ও দুনিয়াদারীর আলোচনাতেও তিনি যেমন পটু তেমনি শাস্ত্রের দুরাবগাহ তত্ত্বে তাঁর স্বচ্ছন্দে বিচরণ করবার ক্ষমতা ক্ষণে ক্ষণে পরিলক্ষিত হবে। ধৈর্য ধরে কিছুদিন নিরীক্ষণ করলেই এই লক্ষণটি ধরা যায়।


3. একই সময়ে বিভিন্ন লোক সদ্‌গুরুর স্থূলদেহের ফটো তুললে বিভিন্ন লোকের পৃথক পৃথক ভাবানুসারে পৃথক পৃথক ফটো উঠবে। যিনি সদ্‌গুরু, তিনি অহরহ দিব্য ভাবলোকে বিচরণ করেন। স্তর ও মণ্ডল ভেদে বিচ্ছুরিত জ্যোতিছটায় তাঁর দেহে ক্ষণে ক্ষণে পরিণাম ঘটে। স্থূল চোখে ধরা না পড়লেও শক্তিশালী ক্যামারেতে তার ছায়াপাত ঘটে।বস্তুতঃ সদ্‌গুরুর একটি ফটো অন্যটি হতে সর্বদাই পৃথক এবং বৈশিষ্ট্যব্যঞ্জক।


4. যং লব্ধা পুমান্‌ সিদ্ধো ভবতি, অমৃতী ভবতি, তৃপ্তো ভবতি, যৎ প্রাপ্য ন কিঞ্চিৎ বাঞ্ছতি, ন শোচতি, ন দ্বেষ্টি, ন রমতে, নোৎসাহী ভবতি তদেব ব্রহ্মঃ। ব্রহ্মকে জানলে সমুদয় তত্ত্বই বিঞ্জাত হয়। সদ্‌গুরুর ব্রহ্মসিদ্ধির ফলে ঞ্জানসিদ্ধি হয়। তাই যিনি সদ্‌গুরু তিনি স্থূল, সূক্ষ্ম, কারণ কারণাতীত জগতের তাবৎ প্রশ্নের উত্তরদানে সমর্থ। 


5. সদ্‌গুরুর সম্মুখে বিভিন্ন লোক একই প্রশ্ন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উত্থাপন করলে প্রত্যেকের মস্তিষ্ককোষের পৃথক পৃথক স্পন্দনানুসুরে তিনি একই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন উত্তরদানে সমর্থ। প্রত্যেকটি উত্তরই শাস্ত্রসম্মত, যুক্তি-সিদ্ধ এবং অনুভব সিদ্ধ হবে। 


6. এমন কি যদি কোন বিঞ্জানী বা বিঞ্জানের গবেষক ছাত্র কোন জটিলতম সূত্রের উদ্ভাবনের জন্য সদ্‌গুরুকে প্রশ্ন করেন তিনি ইচ্ছা করলে সেই জিঞ্জাসুর প্রঞ্জাক্ষেত্রে এমন এক চেতনার উন্মেষ বা এমন এক চিৎ স্পন্দনের উদ্ভব ঘটান যে সেই ব্যক্তির তদ্বিষয়ক ঞ্জান স্বতঃই উপজিত হয়। যা তার অঞ্জাত ছিল, তা আর অঞ্জাত থাকে না।বুদ্ধি ক্ষেত্রে তত্ত্বটির আকস্মিক স্ফুরণ ঘটে। এই অভাবনীয় ঘটনার কারণ- সদ্‌গুরু সমাধিবান, তিনিই প্রকৃত সমাধানমূলক জীবন্ত বিগ্রহ। 


7. সদ্‌গুরুর নিকট বহু লোক বহু প্রশ্ন নিয়ে আসলে তিনি যে কোন একজনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সকলের জিঞ্জাসার সমাধান করে দেন। পৃথকভাবে আর কাউকেও কোন প্রশ্ন করতে হয় না। 


8. ঞ্জাতসারে বা অঞ্জাতসারে সদ্‌গুরুর দর্শন ঘটলে সঞ্জানে মৃত্যু হয়।সদ্‌গুরুকে সামান্য মানুষ ভেবে কেউ যদি তাঁকে গালি দেয়, তারও সঞ্জানে মৃত্যু হয়। এটি দিব্যৌঘ বস্তুতত্ত্বের সংক্রমণ-জনিত অবশ্যম্ভাবী শুভফল। 


9. সদ্‌গুরু চিনবার বিশিষ্ট লক্ষণ হল--- *সদ্‌গুরু কোন বিভূতি দেখান না। তাঁর বিভূতি বা যোগৈশ্বর্য তাঁর অনুগৃহীত ভক্তের মধ্যে দিয়ে প্রকট হয়। ঐ ভক্ত অবশ্যই আক্ষরিক অর্থে দীক্ষাপ্রাপ্ত হওয়া চাই।


এর বিশদ অর্থ হল দীর্ঘকাল যোগাভ্যাসের ফলে যে সকল যোগৈশ্বর্য যোগীর আয়ত্তে আসে, সদ্‌গুরু-আশ্রিত শিষ্যের তা বিনা সাধনে আয়ত্তে আসে। শিষ্যের ভাব, ভাবনা, ইচ্ছা এবং বাক্যদানকে সত্য করবার জন্য সদ্‌গুরুর কটাক্ষে অলৌকিক বিভূতিগুলির প্রকাশ ঘটে।

10. জীবনের যে কোন সঙ্কটময় মুহূর্তে যদি কেউ তাঁকে স্মরণ করে, কিংবা অনিবার্য বিপৎপাতের সম্ভাবনা দেখে সে যদি সদ্‌গুরুরূপে অনুমিত ব্যক্তিটির দোহাই দেয় তাহলে সে বিপদ নিশ্চয়ই প্রতিহত হবে। কেননা-ভক্তবাৎসল্য এবং রক্ষাকর্ত্তৃত্ব সদ্‌গুরু সত্ত্বার পরিচায়ক। 


*** যোগীসমাজে দশটি সূত্র সংক্ষেপে ‘দশমীয়াঁ’ নামে প্রসিদ্ধ। 
লক্ষণগুলির একটি বা দুটি মিললে চলবে না। সদ্‌গুরুর মধ্যে দশমীয়াঁর সমুদয় লক্ষণগুলিই বর্তমান থাকবে। 


https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191



Friday, December 12, 2014


"ন গুরোরধিকং তত্ত্বং ন গুরোরধিকং তপঃ" অর্থাৎ গুরুর চেয়ে বড় তত্ত্ব আর নেই  গুরু সেবার মত আর কোন শ্রেষ্ঠ তপস্যা নেই। গুরুভক্তি বিনা সবই নিরর্থক। গুরুঃ ব্রহ্মা, গুরুঃ বিষ্ণু, গুরুদেবঃ মহেশ্বরঃ।


প্রকৃত আধ্যাত্মিক জীবন  লাভ করতে  হলে  বিষয়  বাসনা সর্বতোভাবে  ত্যাগ করে অণুক্ষণ গুরুদত্ত সাধনক্রিয়ার আশ্রয় নিয়ে পড়ে থাকতে হয়। এইভাবে একবার স্বভাবের যোগ পথে পড়তে পারলে আর কোন চিন্তা থাকে না। কোন  দ্রব্যকে  স্রোতে ভাসিয়ে  দিলে তা যেমন আপনা হতেই স্রোতের বেগে ভেসে যায়, তেমনি  গুরুশক্তিই সাধককে পরম বাঞ্ছিত স্থানে পৌঁছিয়ে দেয়। চাই শুধু  গুরুর উপর একান্ত নির্ভরতা এবং পূর্ণ আত্মসমর্পণ।"

Tuesday, December 2, 2014


মা  নর্মদার  কৃপাসিদ্ধ  এক  হরিভক্ত  মহাত্মার  অনুভূতিঃ----


সুরত  যমুনা  বহি  ঞ্জান  মথুরা  বসা। গ্রাম  গোকুল  বিশোয়াস আয়া। শান্তি যশোদা দেত্তকী, সত্‌গুরু নন্দ বসুদেও যদু প্রীতি লায়া। জিও ও বরম্‌  শ্রীকৃষ্ণ  বলদেও জি কংস অহংকার  কো  মার লায়া। বিবেক  বৃন্দাবন  সন্তোষ  কা  কদম্‌  হৈ। গোয়াল  দ্বীং  বিচ দয়া। সন্দেশা শ্রীরাধিকা  শোলকী  গোপ্তা  তত্ত্ব  লৈছিন  খায়া।


মনোরূপী  যমুনা  নদী  প্রবাহিত  হয়ে  চলেছে। ঞ্জানরূপী  মথুরাপুরী বসে  গেছে  বা  ধ্বসে  গেছে। বিশ্বাস-রূপী  গোকুল  গ্রাম  উৎপন্ন হয়েছে। শান্তি  জেগেছে  মনে;  ঐ  শান্তি  হলেন  যশোদা  ও  দেবকী স্বরূপিনী। সদ্‌গুরু  হলেন  নন্দ  ও  বসুদেব  স্বরূপ,  প্রীতি  যদুকূল স্বরূপ।  জীবও  ব্রহ্মরূপ  কৃষ্ণ  ও  বলদেব   অহংকার  রূপ  কংসকে ধ্বংস  করেছে। বিবেক  বৃন্দাবন  স্বরূপ। সন্তোষ  কদম্ব  বৃক্ষস্বরূপ হয়েছে। শরীরের  অভ্যন্তরস্থিত  দয়া  হল  গোপ  ও  গোপাল  স্বরূপ। সন্দেহ  রূপ  অর্থাৎ  জিঞ্জাসা  শ্রীরাধিকা  তত্ত্ব  রূপ (ননী) জোর  করে কেড়ে  নিয়ে  ভক্ষণ  করেছেন।

Wednesday, November 12, 2014

'ন মৃতা তেন নর্মদা' ------


প্রলয়কালে পৃথিবীর সমস্ত নদী এবং সমুদ্র প্রলয়পয়োধি জলে সর্ববিধ্বংশী মহাসমুদ্রে লয় হয়ে যায়। তাদের স্ব স্ব সত্তার বিলুপ্তি ঘটে। সপ্তকল্পান্তজীবী মহামুনি মার্কণ্ডেয় দেখেছিলেন কল্পান্তের মহাপ্রলয়েও নর্মদার সমগ্র সত্তার বিলুপ্তি ঘটে নি। সমস্ত কল্পেই তিনি স্বমহিমায় নিজের রূপ, রঙ ও আকার নিয়ে বিরাজিত থাকেন। 'ন মৃতা তেন নর্মদা' কোন অবস্থায় তিনি ক্ষীণ হন না, তাঁর মৃত্যু ঘটে না। তাই তাঁর নাম নর্মদা।

মহাকুমারী শক্তির প্রতীক, সৃষ্টি ও সভ্যতার বিধাত্রী এবং পালয়িত্রী দেবী  নর্মদার উৎপত্তিস্থল হল মধ্যপ্রদেশের অমরকণ্টক। অমরকণ্টক থেকে নর্মদা পশ্চিমগামিনী হয়ে আরবসাগরে গুজরাট রাজ্যের অন্তর্গত ভারোচ বা ব্রোচে গিয়ে মিলিত হয়েছে, এই স্থানের নাম ভৃগুকচ্ছ। ভৃগুক্ষেত্র, অপভ্রংশে ভড়োচ > ভারোচ > ব্রোচ। ভারোচ ভৃগুদেবের মূল স্থান হলেও হরিধাম থেকে ভারোচ পর্যন্ত সমস্ত স্থানটাই মহর্ষির তপস্যাক্ষেত্র।

সমুদ্র ও রেবার জলমূর্তি আসলে মহাদেবের অষ্টমূর্তির এক মহান মূর্তি --- অপমূর্তি বা ভবমূর্তি। হরিধামই সমুদ্র-রেবার সংগমস্থল। একদিকে মায়ের স্বচ্ছ, স্নিগ্ধ জলপ্রবাহ  অন্যদিকে সমুদ্রের নীলাভ জলপ্রবাহ এই দুই এর সংগমে হরিধাম। খাঁড়ির মধ্যে দিয়ে নর্মদা প্রবেশ করেছেন সমুদ্রে, পশ্চিম সমুদ্রের খাঁড়িকে খাম্বাটের খাঁড়ি বলা হয়।


https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191