Monday, October 12, 2015


"ওঁ ললিত সিত দুকূলা মঞ্জুমূলাং মাহেশীং,

করকলিত কুটাব্জামিশ্ব মিষ্টাং সুকেশীং।
মণি খচিত বিভূষাং ভালবালেন্দু ভূষাং ---
শিরসি ধৃত কিরীটাং নর্মদাং চিন্তয়ামি।"

Monday, September 28, 2015

"আদি শূলপাণিশ্বর" ---


আদি শূলপাণিশ্বরের মহিমা অনন্ত। তাঁকে মহাজাগ্রত জ্যোতির্লিঙ্গের আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এই জ্যোতির্লিঙ্গের লক্ষণগুলি হল --- 


১) স্নানার্থ লিঙ্গ মস্তকে জল দিলেই লিঙ্গ মধ্যে বিস্ফুলিঙ্গ স্পন্দিত হতে দেখা যায়।  ২) লিঙ্গের অঙ্গে তৈল বিন্দু নিক্ষেপ করলে তা স্থির থাকেন, কদাপি নিসর্পিত হয় না অর্থাৎ গড়িয়ে পড়ে না।  


শূলপাণি ক্ষেত্র ভগবান সূর্যনারায়ণের তপস্যাক্ষেত্র বলে, আদি শূলপাণিশ্বরকে কেউ কেউ হিরণ্যপাণি বলে থাকেন। শিবলিঙ্গটি সুবর্ণ জ্যোতিতে ভাস্বর বলে সুবর্ণলিঙ্গ নামে জগৎ প্রসিদ্ধ হয়েছে। পরিক্রমাকারী সাধু বিশেষতঃ দণ্ডী সন্ন্যাসীদেরকে স্বহস্তে পূজা করতে দেওয়া হত। শূলপাণিশ্বর মহাদেবের মর্যাদা ওঁকারেশ্বরের সমতুল্য। জ্যোতির্লিঙ্গ বিশ্বনাথের কাশীক্ষেত্র যেমন পঞ্চক্রোশ বিশিষ্ট, তেমনি শূলপাণি মহাদেবের ক্ষেত্রও পঞ্চক্রোশ বিশিষ্ট। উজ্জ্বয়িনীর মহাকালেশ্বর জ্যোর্তিলিঙ্গের যেমন ভস্মারতি হয় তেমনি শূলপাণিশ্বর মহাদেবেরও ভস্মারতি হত, যা কেবল পরিক্রমাবাসী এবং সন্ন্যাসীদের দর্শনের অধিকার ছিল। 


নর্মদাতে বাঁধ দেওয়ার ফলে হিরণ্যগর্ভ শূলপাণিশ্বর মহাদেব আজ নর্মদা গর্ভে নিমজ্জিত হয়েছেন। তাই শূলপাণি ক্ষেত্রে শূলপাণিশ্বরের অনুরূপ বলে আর এক শূলপাণিশ্বরের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। 



www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191


www.twitter.com/tapobhumi30


www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com  (Hindi)



Monday, September 7, 2015

"ভস্মারতি" ---


"......... মন্দিরে যখন পৌঁছালাম, তখন প্রাত্যহিক সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গেছে। নাঙ্গা মহাত্মার সঙ্গে সকলেই হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। আরতির শেষে নাঙ্গা বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় এলাম। এসেই রঞ্জন এবং বাসবানন্দজী হৈ হৈ করে বলে উঠলেন --- আমরা ত সব এক সঙ্গেই আছি, আপনাদের পঞ্চক্রোশী পরিক্রমার বিবরণ যে কোন সময় শুনে নিতে পারব, আপনারা নিরাপদে ফিরে এসেছেন এতেই আপাততঃ নিশ্চিন্ত হয়েছি। বাব্‌বা! সারাদিন আমাদের কি দুশ্চিন্তাতেই না কেটেছে! স্বয়ং পুরোহিতজীও ঐ দুর্গম জঙ্গলের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। যাই হোক, এ দিকে একটা মজার সংবাদ শুনুন ---

আজ রাত্রি সাড়ে ৩টের সময় শূলপাণিশ্বরের ভস্মারতি হবে। আপনারা পরিক্রমা করে একেবারে সন্ধ্যার মুখে ফিরে এলেন, তাই পুরোহিতজী আমাদেরকে জানাবার সুযোগ পাননি। এ জিনিষ নাকি শিবময় ভারতবর্ষের আর কোন মন্দিরে হয় না। এখানে একজন অঘোরী শিবসাধক থাকেন। তিনি প্রতি সোমবার শেষ রাত্রে ভস্ম নিয়ে পৌছান। কোন সন্ন্যাসীর দেহান্ত হলে অগ্নিতে তাঁর মৃতদেহ সৎকারকালে সর্বাঙ্গ ভস্মীভূত হয়ে গেলে, তাঁর ব্রহ্মতালু যখন ফেটে যায়, সেই ভস্মীভূত ব্রহ্ম তালু সংগ্রহ করে। সেই ভস্ম দিয়ে শূলপাণীশ্বরের আরতি হয়। ঐ আরতি দর্শনের অধিকার কোন স্ত্রীলোক বা গৃহীর নেই। শুধু পরিক্রমাবাসী এবং সন্ন্যাসীদের তা দর্শনের অধিকার আছে।

আমি বললাম --- শুধু এই মন্দিরেই ভস্মারতি হয়, ভারতের আর কোন মন্দিরে হয় না, একথা  মানতে পারলাম না। উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরে সপ্তাহে শুধু একদিন মাত্র নয়, প্রতিদিনই সেখানে রাত্রি ৩ টের সময় ভস্মারতি শুরু হয়। মহাকাল মন্দিরে একজন অঘোরপন্থী সাধক আছেন তিনি সারা সপ্তাহ ধরে ভস্মারতির ভস্ম সংগ্রহ করে থাকেন, এক বিশেষ নিয়মে। সেই আরতি দর্শনকালে মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নেই। তবে পুরুষ গৃহীরা তা দর্শন করতে পারে। অবগাহন স্নান কিংবা সেখান কার কোটিতীর্থের জল মাথায় ছিটিয়ে আরতি দেখার নিয়ম। কোটিতীর্থের মধ্যে ৫০ ফুট বা ১০০ ফূট দীর্ঘ এক সুবিশাল ত্রিশূল প্রোথিত আছে।

তোমার কথা সম্পূর্ণ সত্য। তবে এই মন্দিরে আরতিকালে মহর্ষি জৈগীষব্য কৃত একটি স্তোত্র এবং সামবেদের একটি মন্ত্র পাঠ হয় বিশুদ্ধ সুর ও স্বর সংযোগে সে জিনিষ মহাকালেশ্বর মন্দিরেও হয় না। এখানকার পুরোহিত মশাইকে জিঞ্জাসা করলেই জানতে পারবেন, ভস্মারতির জন্য প্রতি সোমবার তাঁকে সারাদিন রাত নিরম্বু উপবাসে থাকতে হয়। মহাকাল মন্দিরের পুরোহিতরা সন্ধ্যা থেকে উপবাসী থাকলেও দিনের বেলা নিরম্বু উপবাসে থাকেন না।"



www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191

www.twitter.com/tapobhumi30

www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com (Hindi)

Wednesday, September 2, 2015


বিশ্বেশ্বর বিশ্বপাবন ভব, ভব-ভয়-ভঞ্জন,
মৃত্যুঞ্জয় মদন-দমন মরণ-জনম-নিবারণ।
চরণ-সরোজ নবারুণ ছটা, তাহে বিল্বদল চন্দনের ছিটা,
শার্দুল ছালে কটিতট আঁটা যোগীজন-মনোমোহন।।
গলে হাড়মালা দল দল দোলে, বব বব বম্‌ বাজে ঘন গালে 
বাজায়ে ডমরু নাচে তালে তালে, নাচে সাথে ভূত অগণন।।
পন্নগভূষা পিণাকপাণি ঝলমল ভালে জ্বলে নিশামণি,  
কুলুকুলু শিরে বহে মন্দাকিনী, ঢুলুঢুলু প্রেমে দুনয়ন।।  
সৃষ্টিলয়কারী জগৎ পিতা, ঞ্জানময় প্রেম ভক্তিদাতা, 
এ দীন সন্তানে ভুলে আছ কোথা, নিজ গুণে দাও দরশন।।
বিশ্বেশ্বর বিশ্বপাবন ভব ভব-ভয়-ভঞ্জন।।






Tuesday, August 18, 2015

"পিষাণহারী" ---


পিষাণহারী কোন দেবীর বিগ্রহ নয়, ইনি শিবই। তবে এই শিবের উৎপত্তি রহস্য বড়ই বিচিত্র। প্রায় দেড়শ বছর আগে এই কলিযুগে নর্মদাতটে এক অদ্ভূত দৈবলীলা প্রকট হয়েছিল তারই জাজ্জ্বল্যমান দৃষ্টান্ত এই পিষাণহারী। 


পিষাণহারী অতি সাধারণ একজন চাষীর বৌ। তার স্বামীর নাম ছিল রামদীন। সে অত্যন্ত অলস এবং নিষ্কর্মা প্রকৃতির লোক ছিল। সে 'ক্ষেতি-উতির' কাজ করত বটে কিন্তু সেদিকে তার মন ছিল না। 'ক্ষেতির' কাজ ছেড়ে দিয়ে 'ক্ষেতির' ধারে বসেই নাম জপ করত। বাড়ীর কোন কাজ করত না। সারাদিন এমনকি রাত্রেও সে নাম-কীর্তনে মেতে থাকত। অগত্যা এই অকর্মণ্য, সংসার-উদাসীন স্বামী এবং নাবালক তিনটি ছেলের ভরণপোষণের দায়িত্ব পড়েছিল পিষাণহারীর উপর। 


সাধ্বী পিষাণহারী প্রতিবেশীদের গম, বাজরা চাকীতে পিষে দিয়ে বিনিময়ে যা পেতেন, তাই দিয়ে স্বামী ও পুত্রদের মুখে অন্ন জোগাতেন। নিজের চাকীটি মাথায় নিয়ে পিষাণহারী প্রতিবেশীদের বাড়ীতে হাজির হতেন, গম, বাজরা পিষতেন আর অহরহ নর্মদামায়ী ও মহাদেবের নাম জপ করতেন। কিন্তু এইটুকু সুখও তাঁর ভাগ্যে সইল না। 


হঠাৎ একদিন ভাবাবস্থায় হাঁটতে হাঁটতে রামদীন পাহাড়ের একটা টিলা থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান। বসন্তরোগ হয়ে দুটো ছেলে অকালে প্রাণত্যাগ করল, ছোট ছেলেটিকে একরাত্রে কুটিরের দাওয়া থেকে বাঘে টেনে নিয়ে গেল। শোকে দুঃখে হতভাগিনী পাগলের মত হয়ে গেলেন। ঘর থেকে আর বাইরে যেতেন না। চাকীটিকে বুকে নিয়েই কখনও আদর করতেন, কখনও বা কেঁদে কেঁদে বলতেন --- ভগবান! একে একে সবাইকেই ত তুলে নিয়েছ, এতকাল আমি যাদের জন্য পরিশ্রম করে এসেছি, তারা ত এখন আর নেই। আমি ত মন্ত্রতন্ত্র জানি না, এতকাল চাকী পিষে যাদের পূজা সেবা করতাম, তারা সবাই আমাকে ছেড়ে গেছে। এখন আর কার সেবা করব? 


হে শিউজী, এখন তোমার আমার মাঝখানে এসে আর কেউ আড়াল করে দাঁড়াবে না। এই বলে চাকীটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে শিউজী শিউজী বলে হাউ হাউ করে কাঁদতেন। চাকীটিই যেন তাঁর শিউজী! এইভাবে অর্ধোন্মাদ অবস্থাতেই একদিন, চাকীটিকে বুকে জড়িয়েই পিষাণহারী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। 


প্রতিবেশীরা নর্মদার চড়ায় চাকী সহ পিষাণহারীকে সমাধিস্থ করে এল। কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল সেই চাকীটি একটি শিবলিঙ্গে পরিণত হয়ে গেছে এবং নর্মদা পিষাণহারীর সেই সমাধিস্থল এবং শিবলিঙ্গকে মাঝখানে রেখে দুইদিকে দুইটি ধারায় বয়ে চলেছে। হতচকিত এবং বিস্মিত নর্মদার উভয়তটের অধিবাসীরা পিষাণহারীর সমাধিস্থলের সেইস্থানে 1832 সালে মহাদেবের একটি মন্দির নির্মাণ করে তার নাম দিয়েছে --- পিষাণহারী। 


সেই থেকে পিষাণহারীর মন্দির তীর্থের মর্যাদা পেয়ে আসছে। নর্মদার প্রবল বন্যায় কতবার কত কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে কিন্তু পিষাণহারীর মন্দিরের কিছু ক্ষতি হয়নি। পিষাণহারীর চাকীর বিবর্তিত রূপ হল শিবলিঙ্গ। সেই শিবলিঙ্গ অর্থাৎ ভক্তবৎসল মহাদেব ভক্তদের অভীষ্ট পূরণ করে চলেছেন।





www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191

www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com


www.twitter.com/tapobhumi30



Monday, July 27, 2015

"নেমাবর এবং হণ্ডিয়া"


নেমাবর তীর্থ এবং হণ্ডিয়া, এই দুই স্থানকে নর্মদার নাভিস্থল বলা হয়। এই দুই স্থানই অমরকণ্টক হতে রেবাসংগম পর্যন্ত দূরত্বের মাঝামাঝি স্থানে অর্থাৎ কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। নেমাবর তীর্থ এবং হণ্ডিয়া এই দুই স্থানই কুবেরের শিবতপস্যার সিদ্ধক্ষেত্র।

নেমাবর তীর্থ --- নেমাবর নর্মদার উত্তরতটে অবস্থিত। এখানকার বাতাবরণ বড়ই পবিত্র। এই স্থান প্রাচীনকালে হতেই তপস্যার অনুকূল। এখানকার পূজিত শিবলিঙ্গ --- সিদ্ধনাথ, প্রায় দুই ফুট উঁচু। শিবলিঙ্গের সামনের দিকটা কালো এবং যোনিপীঠের দিকটা সাদা। জ্যামিতিক মাপে সাদা ও কালো অংশ প্রায় সমান সমান। শিবলিঙ্গের গাত্রে দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ চিহ্ন, দক্ষিণাবর্ত গতিতে পরিস্ফুট চক্র চিহ্ন এবং কৌমদকী অর্থাৎ গদার চিহ্ন ও পদ্মচিহ্ন থাকায় --- সিদ্ধনাথ হল বৈষ্ণবলিঙ্গ।

হণ্ডিয়া --- হণ্ডিয়া নর্মদার দক্ষিণতটে অবস্থিত। মন্দিরের চূড়ায় পিতলের দ্বাদশ কলস রয়েছে। এখানকার পূজিত শিবলিঙ্গ --- ঋদ্ধনাথ প্রায় দুই ফুট উঁচু। শিবলিঙ্গের সামনের দিকটা কালো এবং যোনিপীঠের দিকটা সাদা। জ্যামিতিক মাপে সাদা ও কালো অংশ প্রায় সমান সমান। শিবলিঙ্গের গাত্রে দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ চিহ্ন, দক্ষিণাবর্ত গতিতে পরিস্ফুট চক্র চিহ্ন এবং কৌমদকী অর্থাৎ গদার চিহ্ন ও পদ্মচিহ্ন থাকায় -- ঋদ্ধনাথ হল বৈষ্ণবলিঙ্গ।

"বৈষ্ণবং শঙ্খচক্রাঙ্কগদাব্জাদিবিভূষিতম্‌।
শ্রীবৎসকৌস্তুভাঙ্কঞ্চ সর্বসিংহাসনাঙ্কিতম্‌।।
বৈনতেয়সমাঙ্কং বা তথা বিষ্ণুপদাঙ্কিতম্‌।
বৈষ্ণবং নাম তৎপ্রোক্তং সর্বৈশ্বর্যফলপ্রদম।।" 

সিদ্ধনাথ ও ঋদ্ধনাথ  শিবলিঙ্গে  শ্রীবৎস, কৌস্তভ, গরুড় ও বিষ্ণু পদচিহ্ন না থাকলেও শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম প্রভৃতি বিষ্ণু চিহ্ন থাকায়, ইনি বৈষ্ণবলিঙ্গ। এই শিবলিঙ্গ সর্বৈশ্বর্য প্রদান করেন।

****** পুরাণ এবং রামায়ণে আছে --- কুবের যক্ষদের রাজা, তিনি ধনপতি। পুলস্ত্য ঋষির পুত্র বিশ্রবামুনি কুবেরের পিতা। বিশ্রবার পুত্র বলে এঁর আর এক নাম বৈশ্রবণ। উগ্র তপস্যার বলে কুবের ব্রহ্মার বরে অমরত্ব, উত্তর দিগন্তের দিকপালত্ব এবং ধনাধ্যক্ষতা লাভ করেন। ব্রহ্মা তাঁকে পুষ্পক রথ দান করেছিলেন। এই দিব্য রথের বৈশিষ্ট্য --- স্মরণ মাত্রই এই রথ তাঁর কাছে উপস্থিত হত এবং যথা সংকল্পিত স্থানে পৌঁছে দিত। বিশ্রবামুনি তাঁর এই পুত্রের জন্য লঙ্কাপুরী বাসস্থান হিসাবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্রবার অপর পুত্র কুবেরের বৈমাত্রেয় ভ্রাতা বিশ্বত্রাস, রাক্ষসরাজ রাবণ কুবেরের কাছ হতে স্বর্ণলঙ্কা এবং পুষ্পক রথ অধিকার করে নেন। তখন বিশ্রবামুনি অলকাপুরীকে কুবেরের বাসস্থান নির্দিষ্ট করে দেন।

রাবণ কুবেরের কাছ হতে স্বর্ণলঙ্কা এবং পুষ্পক রথ কেড়ে নিলে মনের দুঃখে কুবের নর্মদার উত্তরতটস্থ নেমাবরে সিদ্ধনাথের স্থানে ষড়ক্ষরী শিববীজ জপ করতে থাকেন। মহাদেব প্রসন্ন হয়ে কুবেরকে নবনিধি অর্থাৎ দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ, মহাপদ্ম, মকর কচ্ছপ, নীল, কুন্দ, মুকুন্দ, খর্ব প্রভৃতি মহামূল্য মণিমাণিক্যের সঙ্গে পুষ্পক রথ এবং অলকাপুরী দান করেন। রাবণ পুনরায় তা কেড়ে নিলে মহাদেবের প্রত্যাদেশে কুবের নর্মদার দক্ষিণতটে হণ্ডিয়াতে ঋদ্ধনাথের স্থানে বসে তপস্যা করেন এবং পুনরায় সেই নবনিধি এবং অলকাপুরী ফিরে পান।

মহাকবি কালিদাসের অমর গীতিকাব্য "মেঘদূতম্‌" এ বর্ণিত এই অলকাপুরী লোকমানসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। একবার হিমালয়ে কুবের দেবী রুদ্রানীকে দৈবাৎ দেখতে পান, ফলে তাঁর দক্ষিণ চক্ষু দগ্ধ এবং বাম চক্ষু বিগলিত হয়ে পিঙ্গল বর্ণ ধারণ করে। সেইজন্য কুবেরের নাম হয় এক পিঙ্গল। এঁর তিনটি পা এবং আটটি দাঁত থাকায় দেহের গঠন এইরকম কুৎসিৎ বলেই এর নাম কুবের। 

পৌরাণিক কাহিনী বাদ দিলে বৈদিক মতে কুবের শব্দের অর্থ --- পরমেশ্বর। কুবি আচ্ছাদনে এই ধাতু হতে কুবের শব্দ নিষ্পন্ন হয়। 'যঃ সর্বং কুবতি স্বব্যাপ্ত্যাচ্ছদয়তি স কুবেরো জগদীশ্বরঃ।' অর্থাৎ যিনি স্বীয় ব্যাপ্তির দ্বারা সকলকে আচ্ছাদন করেন সেই পরমেশ্বরের নাম কুবের।

https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191

Friday, July 10, 2015

"পিতামাতাই প্রকৃত সদ্‌গুরু" ------


"মন্ত্রদাতা ঞ্জানদাতা, তাঁরে বলি গুরু,

সদ্‌গুরু সেই যাঁহা হতে, ব্রহ্মদর্শন শুরু।
স্থিতি ভেদে সংঞ্জা ভেদে, সুকৃতিতে মেলে
মহাগুরু মাতাপিতার, জন্ম হতেই কোলে।।"

বেদ উপনিষদ থেকে আরম্ভ করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঋষি মুনি মহাযোগীদের মতে ---


"ওঁ " --- ব্রহ্মমন্ত্র, মন্ত্ররাজ। ব্রহ্মসাধনের একাধারে সাধ্য ও সাধনতত্ত্ব "ওঁ " --- ওমিতি ব্রবীমি তৎ। অ উ ম এর সমবায়ে "ওঁ"। "অ" = ব্রহ্মা অর্থাৎ সৃষ্টিতত্ত্ব, "উ" = বিষ্ণু অর্থাৎ স্থিতিতত্ত্ব বা পালনী শক্তি এবং "ম" = মহেশ্বর অর্থাৎ লয় বা পর্যাবসানের প্রতীক। "ঁ " (পরপ্রণব) সূচিত করে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরেরও অতীত পরমতত্ত্ব মহাউদগীথ, পরম জ্যোতি, আনন্দ, রস ও অমৃতস্বরূপ পরমব্রহ্ম।


"ঐং" --- এই মন্ত্র পূর্ণ ব্রহ্মবিদ্যা স্বরূপা বাগেশ্বরী বা সরস্বতীর বীজ। সরস্বত্যর্থ "ঐঁ" শব্দোবিন্দু দুঃখহরার্থকঃ। "ঐ" = সরস্বতী,  "ঁ" = দুঃখহরণ। সরস্বতী শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় --- স,  রসবতী, স + রস + বতুপ, স্ত্রীলিঙ্গে ঈপ্‌ অর্থাৎ স, রসবতী রসস্বরূপ পরমব্রহ্ম। ব্রহ্মবিদ্‌বরিষ্ঠ ঋষিগণ মন্ত্রোদ্ধার করে আদি গুরুর বীজ হিসাবে ঐং কে প্রত্যক্ষ করেছেন। গুরু ঞ্জানদাতা, মুক্তিদাতা, স্বয়মেব ব্রহ্ম। "ঐং" পিতার বীজমন্ত্র হিসাবে নির্দিষ্ট হওয়ায় অর্থ দাঁড়াল --- ঞ্জানদাতা, মুক্তিদাতা, পরমব্রহ্মের  সচল বিগ্রহ  পিতৃদেব আমাদের সর্ববিধ দুঃখ হতে পরিত্রাণ করেন।


"হ্রীঁ " --- ব্রহ্মস্বরূপিণী "হ্রীঁ" বীজ একাধারে মায়া ও ভুবনেশ্বরী  বীজ। স্নেহময়ী মায়ের মধ্যে যাঁর পূর্ণ  প্রকাশ। "হ" = শিব। "র্‌" = প্রকৃতি। "ঈ" = মহামায়া, জগজ্জননী।  "ঁ " = দুঃখহরণ। অর্থাৎ মহাদেবের মহাকল্যাণময়ী শক্তি মহানাদময়ী  জগজ্জননীর ছায়া মা আমাদের দুঃখ হরণ করেন।


মাতাপিতার বীজমন্ত্র  "ওঁ  ঐঁ  হ্রীঁ " এই মহাবীজের মধ্যে শিবশক্তির সামরস্য ঘটছে।


"পরমদুর্লভং বীজং ভজতাং কামদো মণিঃ।" ----- এই বীজ পরম  দুর্লভ  বস্তু, কামদমণির  কাছে  যদৃচ্ছা  প্রার্থনা করলে যেমন সর্বাভীষ্ট সিদ্ধ হয়, সেইজন্য কামদমণি ঞ্জানে এই বীজের ভজনা করা উচিত।।