Tuesday, November 4, 2014


"তোমার মাঝে রয়েছি আমি,
জেনেও আমি জানি না।
আমার মাঝে রয়েছ তুমি 
জেনেও আমি জানি না!
আমার গুরু তোমার অঙ্গে
রয়েছে মিশে একই সঙ্গে ---
তোমার রূপ যে বিশ্বভুবন,
চিনেও আমি চিনি না!
মনের ওপারে রয়েছ তুমি
রয়েছি আমি এপারে,
ভাবের খেয়ায় পাল তুলে
দেখতে যাই যে তোমারে!
আমার মনের এপার ওপার
তুফান এলে হয় একাকার --- 
তখন কোথায় তুমি, কোথায় আমি
কিছুই খুঁজে পাই না,
আমার মাঝে রয়েছ তুমি
জেনেও আমি জানি না!!



Wednesday, October 29, 2014


"স্রষ্টা আছেন শুনি ---

তাঁরে চোখে দেখি নি,
মাতাপিতা নিত্য প্রকট
তাঁদেরেই নমি।।"

মাতাপিতার স্বরূপ দর্শনের মহাসিদ্ধবীজ --- "ওঁ  ঐঁ  হ্রীঁ" --- এই মহাবীজের মধ্যে শিবশক্তির সামরস্য ঘটেছে। এই মহাবীজ পরম দুর্লভ বস্তু। কামদমণির কাছে যদৃচ্ছা প্রার্থনা করলে সর্বাভীষ্ট সিদ্ধ হয়। কামদমণি ঞ্জানে এই বীজের ভজনা করা উচিত।।

Wednesday, October 15, 2014

অমরকণ্টকের মহিমা ---


অমরকণ্টক, মধ্যপ্রদেশের শাডোল জেলার পুষ্পরাজগড় তহশিলের দক্ষিণ পূর্বে মেকল পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত। এটি সমুদ্রতল থেকে ৩৫০০ ফুট উঁচু। অমরণ্টকের উত্তরে শাডোল, দক্ষিণ-পশ্চিমে মান্দালা, দক্ষিণ-পূর্বে বিলাসপুর এই তিন জেলার মাঝামাঝি স্থানে অমরকণ্টক। উত্তরে অনুপপুর, পূর্বে পেনড্রা ও পশ্চিমে ডিনডোরী থেকে সোজা পৌঁছানো যায় অমরকণ্টকে।


অমরকণ্টক  মোক্ষদাত্রী, সর্বসিদ্ধিপ্রদায়িনী মহাকুমারী শক্তির প্রতীক মা নর্মদার উৎপত্তিস্থল। অমরকণ্টকের অপর নাম মেকল বা ঋষ্য। রুদ্রতেজাৎসমুদ্ভূতা শিবকন্যা মা নর্মদার উত্তরে বিন্ধ্য পর্বত ও দক্ষিণে সাতপুরা পর্বতমালা। এই দুই পর্বতমালার মধ্যে দিয়ে নর্মদা পশ্চিগামিনী হয়ে আরবসাগরে গুজরাট রাজ্যের অন্তর্গত ভারোচ বা ব্রোচে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এই স্থানের নাম ভৃগুকচ্ছ। 


অমরকণ্টকের চারিদিকে ঘনঘোর অরণ্যানি, সেই ভয়ঙ্কর অরণ্যানির তমসা ততধিক ভয়ঙ্কর। ভয়ঙ্কর শ্বাপদ গোষ্ঠীর উপদ্রব সহ্য করে, কণ্টকাকীর্ণ বনভূমি ও পাকদণ্ডী বেয়ে তীর্থযাত্রীদের যেতে হত এই মহাতীর্থে। কোল, ভীল, মুণ্ডা প্রভৃতি উপজাতির বাস এখানে। অমরকণ্টকের এই ঘনঘোর অরণ্যানি শাল, সেগুন, শালাই, বিজা, মহুয়া, লাখ, তেন্দুপাতা, গোঁত এবং অনেক বনৌ ঔষধিতে ভরপুর।


এছাড়া এখানেই আছে শোণ নদীর উৎপত্তিস্থল। আদিকাল থেকে নর্মদা ও শোণ দুই নদীর উদগমস্থল ছিল ঋষিমুণিদের তপস্যাভূমি।


এই নর্মদাক্ষেত্র মহাসিদ্ধপীঠ, শ্রেষ্ঠ তপস্যাস্থল। "নর্মদায়াং তপঃ কুর্যাৎ মরণং জাহ্নবীতটে" --- গঙ্গাতীরে মৃত্যু হলে জীবের উচ্চগতি হয় কিন্তু তপস্যায় সিদ্ধিলাভ করতে হলে আসতে হয় নর্মদাতটে। মহাচৈতন্যময়ী চৈতন্যকারিণী নর্মদা মায়ীর কৃপা কটাক্ষ ছাড়া ঞ্জানসিদ্ধি বা কৈবল্যসিদ্ধি কখনই সম্ভব নয়।

মহর্ষি ভৃগু, মার্কণ্ডেয় থেকে আরম্ভ করে মহর্ষি পতঞ্জলি, গুরু গোবিন্দপাদ, শঙ্করাচার্য, গোরক্ষনাথজী সবাই ছুটে গিয়েছিলেন নর্মদায় তপস্যা করতে। ভারতের শ্রেষ্ঠ মহাত্মা মাত্রেই নর্মদার কৃপাসিদ্ধ, আশীর্বাদধন্য।

জগৎ সংসারে নর্মদা এমনই একমাত্র নদী যার পরিক্রমা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে কারণ পরম পরিতৃপ্ত বিধায়িনী, পরম সুখ ও আনন্দদায়িনী, মহাকুমারী শক্তির প্রতীক হলেন, মা নর্মদা।


তাই বৈদিক ঋষিরা ঘোষণা করেছেন ---



নর্মদা সরিতাং শ্রেষ্ঠা রুদ্রতেজাৎ বিনিঃসৃতা।
তারয়েৎ সর্বভূতানি স্থাবরানি চরানি চ।।

নর্মদা সমস্ত নদীকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; রুদ্রের তেজ হতে সমুৎপন্না, স্থাবর জঙ্গম সমস্ত কিছুই তিনি ত্রাণ করেন।

"সর্বসিদ্ধিমেবাপ্নোতি তস্যা তটপরিক্রমাৎ" --- শুদ্ধচিত্তে তাঁর তট পরিক্রমা করলে সর্বসিদ্ধি করায়ত্ত হয়।


****** নর্মদা --- মধুনিস্যন্দিনী সংস্কৃত ভাষায় ঋষিদের অত্যন্ত তাৎপর্যময় এই শব্দটি মূর্তিমতী "গায়েত্রী" র মতই ত্র্যক্ষরা। নর্মন্‌ ধাতু হতে শব্দটি নিষ্পন্ন, নর্মন্‌ দদাতি ইতি নর্মদা। নর্মন হচ্ছে নৃ ধাতুর উত্তর মন্‌ ও কর্তৃবাচ্য। নর্ম মানে হচ্ছে ক্রিয়া, নর্ম মানে হচ্ছে খেলা, প্রিয়ত্ব বা বিহার। নর্ম --- দা + ড = নর্মদা। নর্মন্‌ দদাতি অর্থাৎ আনন্দ-বিলাস যিনি দান করেন। ব্রহ্মের যে আনন্দ-বিলাস, জগৎ জুড়ে যে আনন্দের লীলা চলছে। উপনিষৎ বলছে --- আনন্দ থেকে জাত, আনন্দের বুকেই সবাই আছে। অন্তে এই আনন্দেই সব লয় পাবে --আনন্দ ব্রহ্মের সেই অলৌকিক আনন্দ-বিলাস দেখবার, বুঝবার এবং অনুভব করার ক্ষমতা যিনি দান করেন --- তিনিই নর্মদা।


https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191



Monday, October 13, 2014


"সন্ত সহহী দুখ পরহিত লাগী। 
পরদুখ হেতু অসন্ত অভাগী।
ভূ-রজ তরু সম সন্ত কৃপালা। 
পরহিত নিত সহ বিপতি বিসাসা।।"

সন্তপুরুষ পরহিতের জন্য দুঃখ সহ্য করেন আর অভাগা অসন্ত ব্যক্তি পরের দুঃখের হেতু। কৃপালু সন্ত পৃথিবীর ধূলা ও তরুর সমান; তিনি পরহিতের জন্য নিত্য মহা বিপত্তি সহ্য করেন।


"কমঠ পীঠি জামহিঁ বরুবারা।
বন্ধ্যাসুত বরু কাহুহি মারা।।
ফুলহিঁ নভ বরু বহু বিধি ফুলা।
জীবন লহ সুখ হরি প্রতিকূলা।।"

কচ্ছপের পিঠে চুল হওয়া, বন্ধ্যার পুত্র হওয়া আর আকাশে ফুল ফোটার মত অসম্ভব ব্যাপারও সম্ভব হতে পারে, কিন্তু হরি প্রতিকূল সুখ পাওয়া কিছুতেই সম্ভব নয়।


Saturday, October 4, 2014


"তপোভূমি  নর্মদা" র  পক্ষ  থেকে  সমস্ত  পাঠককে  জানাই  শুভ  বিজয়ার  প্রীতি  ও  শুভেচ্ছা।

Wednesday, September 24, 2014

দিব্যগুরুর মন্ত্রমালা ---


ওঁ যদ্‌ ব্রহ্ম শুদ্ধং নিরহং নিরীহং স্বান্তর্বিলীনাত্মসমস্তশক্তি।

সচ্চিৎসুখং চৈকম্‌ অনন্তপারং তং তু আদিনাথং গুরুমানতা স্মঃ।।১

যিনি  শুদ্ধ, নিরহঙ্কার, আপ্তকাম এবং যাঁর অভ্যন্তরে সমস্ত শক্তি বিলীন হয়ে আছে, সেই অনন্ত অপার সচ্চিদানন্দ আদিনাথ নামক পরমাত্মা আমাদের প্রথম দিব্যগুরু। আমরা তাঁকে প্রণাম করি।


ওঁ যাস্তদ্বিলীনামিতশক্তয়ঃ স্যুস্তৎরূপিণী ব্রহ্মণ আদ্যভিন্না।

নিদ্রান্ত আদ্যেব নরস্য বৃত্তির্নতাঃ স্ম স্তাং শক্তিগুরুং দ্বিতীয়ম্‌।।২

পরব্রহ্ম হতে অভিন্না আদ্যাশক্তি --- যিনি বিলীন হয়ে আদিনাথ নামক পরব্রহ্মে  সুপ্তোত্থিত  পুরুষের  বৃত্তিবৎ  অবস্থান  করেন, তিনি আমাদের দ্বিতীয় দিব্যগুরু। আমরা তাঁকে প্রণাম করি।


ওঁ ত্বয়া বিশিষ্টস্তু স আদিনাথো নিরাকৃতির্নির্গুণ উচ্যতেহসৌ।

বৃত্ত্যন্যগোহনুগ্রবাং স্তৃতীয়ং সদাশিবং তং গুরুমানতাঃ স্মঃ।।৩

সেই শক্তিবিশিষ্ট আদিনাথ নির্গুণ ও নীরূপ হলেও নিবৃত্তিক যোগীর প্রঞ্জায় অনুগ্রহবশতঃ আরূঢ় হন বলে তাঁর নাম সদাশিব। সেই সদাশিব আমাদের তৃতীয় দিব্যগুরু। আমরা তাঁকে প্রণাম করি।


ওঁ তদুত্থিতা যা স্বত এব বৃত্তিঃ শ্রুত্যা স নৈকো রমতে ত্বিতীড্যা।

তাং শুদ্ধাবিদ্যাং চ সদাশিবীয়াং শক্তিং চতুর্থং গুরুমাতাঃ স্মঃ।।৪

সদাশিব দ্বিতীয় ব্যতীত একক প্রকাশিত হতে পারেন না বলে যে শক্তিরূপ বৃত্তির আশ্রয় গ্রহণ করেন, সেই শক্তিই আমাদের চতুর্থ দিব্যগুরু। আমরা তাঁকে প্রণাম করি।


ওঁ তদ্বানরূপঃ সগুণঃ স জাতস্তু অপাদপাণিঃ শ্রুতিবাক্‌প্রসিদ্ধঃ।

তিরোহিতং তিষ্ঠতি বিশ্বমস্মি্‌ন তমীশ্বরং পঞ্চমমানতাঃ স্মঃ।।৫

সেই শক্তিযুক্ত আকার বিরহিত কিন্তু ঞ্জানাদি বহুগুণবিশিষ্ট সদাশিব যখন অনুগ্রহ নিগ্রহ-সমর্থ ঈশ্বররূপ ধারণ করেন এবং তাঁর যে ঈশ্বররূপ শ্রুতি চরণহীন হলেও বেগগামী, নয়নহীন হলেও দৃষ্টিমান ও কর্ণহীন হলেও শ্রবণশীল বলে বর্ণনা করেছেন, সেই ঈশ্বর আমাদের পঞ্চম দিব্যগুরু। আমার তাঁকে প্রণাম করি।


ওঁ দ্বিতীয়ম্‌ ঐচ্ছৎ শ্রুতিবর্ণিতা যা তদ্ধৃত্তিরস্মান্‌ মহদাদিগর্ভম্‌।

ধত্তেহন্তরে তাং বয়মীশ্বরস্য শক্তিং তু ষষ্ঠং গুরুমানতাঃ স্মঃ।।৬

লীলার জন্য দ্বৈতভাব গ্রহণ করেছেন বলে শ্রুতি যাঁকে ইচ্ছাময় বলেন এবং তাঁর যে ইচ্ছাশক্তিরূপ বৃত্তি মহাদাদির নিধান বলে অভিহিত। তাঁর সেই বহুভবন শক্তি আমাদের ষষ্ঠ দিব্যগুরু। আমরা তাঁকে প্রণাম করি।


ওঁ তদ্যুগগুণাঢ্যাকৃতিমান্‌ স যা ত রুদ্রেতি বেদোক্তবচঃপ্রসিদ্ধঃ।

লয়ীকৃতং তিষ্ঠতি বিশ্বমস্মিংস্তং সপ্তমং রুদ্রগুরুং নতাঃ স্মঃ।।৭

মহাদাদিনিধানশক্তিযুক্ত যে ঈশ্বর গুণবহুল হয়ে আপনাতে সমস্ত বিশ্ববেগ ধারণ করে থাকেন এবং যজুর্বেদ রুদ্রাধ্যায়ে যাঁকে রুদ্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি আমাদের সপ্তম দিব্যগুরু। আমরা তাঁকে প্রণাম করি।


ওঁ অহং বহু স্যামিতি যা তদুত্থা বৃত্তির্জনিত্রী মহাদাদিকানাম্‌।

পৃথক পৃথক কৃত্য চ রুদ্রশক্তিং তমষ্টমং স্বীয়গুরুং নতাঃ স্মঃ।।৮

এক থেকে বহু হবার অভিপ্রায়ে ধৃতবেগ রুদ্র হতে বৃত্তিরূপা যে শক্তি অন্তর্নিহিত তত্ত্বসমূহকে পৃথক করার জন্য মহাদাদির জনিত্রী হন, তিনি আমাদের অষ্টম দিব্যগুরু। আমরা তাঁকে প্রণাম করি।


ওঁ ব্যাপ্নোতি তদ্যুক স  মহন্‌মুখেষু  তত্ত্বেষু  তেজস্তু অখিলম্‌ স্বকীয়ম্‌।

নিধায় তৎস্থং পরিপাতি বিশ্বং বিষ্ণুগুরুং তং নবমং নতাঃ নতাঃ স্ম।।৯

সংসৃষ্ট ও বিবিক্ত হওয়ায় বৃত্তি অবলম্বন করে মহাদাদি তত্ত্বে যাঁর স্বকীয় সমগ্র তেজ পালনের জন্য নিহিত থাকে, তিনি আমাদের নবম দিব্যগুরু --- বিষ্ণু। আমরা তাঁকে প্রণাম করি।


ওঁ পুষ্ণাম্যহং বিশ্বমিদং স্বকীয়ং মদীয়শক্ত্যেতি মদীয়বৃত্তিঃ।

পুষ্ণাতি তত্ত্বান্তরগং তু বিশ্বং তাং বিষ্ণুশক্তিং দশমং নতাঃ স্মঃ।।১০

আমি স্বতঃই বিশ্বপোষণকৃৎ --- এইরূপ বৃত্তিগত যে বৈষ্ণবী শক্তি তত্ত্বান্তরে পরিণত বিশ্বের পোষণ করেন, তিনি  আমাদের দশম দিব্যগুরু --- বিষ্ণুশক্তি। আমরা তাঁকে প্রণাম করি।


ওঁ তত্ত্বান্তরস্থং জগদিত্থমন্তঃ পশ্যন্‌ স্ববৃত্ত্যা স বিরাড্‌ বভূব।

সমষ্টিজীবোহখিলসৃড বিধাতা গুরুং তমেকাদশমানতাঃ স্মঃ।।১১

তত্ত্বান্তরে জগৎ পরিণত হবে বলে আপন বৃত্তি দ্বারা যিনি হিরণ্যগর্ভাখ্য বিরাট হয়েছিলেন এবং যাঁর সেই মূর্তি হতে অখিল চরাচর বিবিক্ত হয়েছে, তিনি আমাদের একাদশ দিব্যগুরু। তাঁকে আমরা প্রণাম করি।


ওঁ যঞ্জাদিকং চাত্মভবাঃ সুখাপ্ত্যৈ কুর্বন্ত জীবা ইতি যাস্যবৃত্তিঃ।

বেদত্রয়ী কর্মময়ী কিলাজশক্তিং গুরুং দ্বাদশমানতাঃ স্মঃ।।১২

আপন শরীরবস্তুভূত জীব চিরসুখের জন্য যঞ্জাদি সাধিত উপাসনা করবে, এইরকম তাঁর যে বৃত্তি বেদত্রয়ী কর্মময়ী সাবিত্রী নামে প্রসিদ্ধ, তিনি আমাদের দ্বাদশ দিব্যগুরু। তাঁকে আমরা প্রমাণ করি।



https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191

Monday, September 1, 2014


Cont (Last) ............


তারপর মন্দিরে ঢুকে পাশাপাশি অবস্থিত ভূতনাথ নামে অভিহিত তিনটি শিবলিঙ্গকে আমি আমার মত করে পূজা করতে আরম্ভ করলাম। শিব তিনটিতে জল ঢেলে মার্জনা করছি, এমন সময় দেখলাম ১২ টি বার রকমের পাখী নানারকম শব্দ যথা --- কেউ কিচিরমিচির, কেউ টুংটুং, কেউ টিয়ার মত বুলি, কেউ ট্যাঁ-অ্যাঁ-অ্যাঁ করতে করতে মন্দিরের চারপাশে ঘুরপাক খেতে লাগল। আমি সেই পক্ষীকুলের কলতানের মধ্যে পূজা করতে লাগলাম ভূতনাথের। পূজা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, এমন সময় মুখ তুলে দেখি, 'ঠুক্‌ ঠুক্‌' লাঠির শব্দ করতে করতে মহাত্মা ফিরে এসেছেন। একটি শাল পাতায় মোড়া এক ডেলা ছানা ও তিনটি কলা ভূতনাথের সম্মুখে রেখে ভোগ নিবেদনের ইঙ্গিত করলেন। আর একটি শাল পাতায় মোড়া পৃথক এক ডেলা ছানা নিয়ে তা ভেঙ্গে ভেঙ্গে পাখীদের মধ্যে বিলোতে লাগলেন।


পাখীরা তাঁর হাতের উপর কাঁধের উপর বসে ঠুকরে ঠুকরে খুঁটে খুঁটে খেতে লাগল। আমার ভোগ নিবেদনও শেষ হল, পাখীরাও তাঁর হাতে ছানা খেয়ে উড়ে গেল বনে। একটা জিনিষ লক্ষ্য করলাম, তিনি ভোগ নিয়ে আসার পূর্বে মন্দিরের মধ্যে ঢুকেও কয়েকটা পাখী যত্রতত্র নেচে বেড়াচ্ছিল, কিন্তু তিনি এসে পৌঁছানো মাত্রই সকলে তাঁকেই ঘিরে ছিল। তাঁর হাতের ছানা শেষ হয়ে গেলেও শিবলিঙ্গের সামনে ছানা শাল পাতাতে থাকলেও কোন পাখী স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বশে সেদিকে দৃকপাতও করল না।


পূজা ও প্রণাম করে দরজার বাইরে এসে তাঁর পায়ে ফুল চাপিয়ে সাষ্টাঙ্গে ভক্তি নিবেদন করলাম। তখন থেকে মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন উঁকি মারছে, ভারোচে ইনি দেখা দিয়েছিলেন কিনা জিঞ্জাসা করি, কিন্তু খুবই অশোভন হবে বলে জিঞ্জাসা করতে সাহস করলাম না। ভাবলাম, একই গান উভয়ের মুখে শুনেছি বলে যে উভয়েই একই ব্যক্তি হবেন, এমন কোন কথা নেই। একই গানের ভাষা দুজন কেন দুশ জনেরও জানা থাকতে পারে!


---- লেও শৈলেন্দ্রনারায়ণজী! ভুতনাথজীকে কা পরসাদী পা লিজিয়ে।


আমার চিন্তাসূত্র ছিন্ন হল। তিনি কিছু গ্রহণ করবেন কিনা বলতে যাবো, এমন সময় তিনি নিজেই বলে উঠলেন --- লেওজী, ইধর বৈঠকে পা লিজিয়ে, করীব এক বাজ গিয়া হোঙ্গে। আপ তো জানতে হো, হম্‌ কুছ্‌ লেতে নেহি।


সশব্দে একটা উদ্‌গার তুলে বললেন --- কয় রোজ পহেলে ভারভূতি মেঁ ভারভূতেশ্বর জী মুঝে জবর দস্তিসে বহোৎ কেলা ঔর নড়াইল খিলায়ে থা। আভি শ' সাল ইসীমেঁ বীত জায়েঙ্গে।


আমার সংশয় মোচন হল, আমি ভূতনাথের প্রসাদ খেয়ে নিলাম।"




ভূতনাথের মন্দির ---

স্মরণাতীতকাল পূর্বে ঐ ভূতনাথের স্থানে একজন শৈব মহাযোগীর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব স্বয়ম্ভূলিঙ্গ রূপে প্রকট হন। শিবলিঙ্গ আবির্ভাবের কালে আকাশ মণ্ডল ভেদ করে তাঁর কাছে একটি একাক্ষরী দিব্যমন্ত্র প্রকট হয়। আনন্দে অভিভূত হয়ে সেই মহাযোগী প্রচণ্ড উল্লাসে নৃত্য করতে করতে প্রাণপণে চিৎকার করে ঐ বীজ দুবার উচ্চারণ করেন এবং অপার বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেন যে, পূর্বোক্ত শিবলিঙ্গের পাশে আরো দুটি স্বয়ম্ভু লিঙ্গ সঙ্গে সঙ্গে প্রকট হয়েছে। জাপ্য মূলবীজকে প্রকাশ্যে উচ্চারণ করায় সেখানে তৎক্ষণাৎ নন্দী, ভৃঙ্গী, বীরভদ্র, ঘণ্টাকর্ণ বহুতর রুদ্রপিশাচের আবির্ভাব ঘটে।


নিয়মবিরুদ্ধ কাজের জন্য চিরতরে তাঁর জিহ্বা স্তব্ধ হয়। তিনি অতঃপর যতকাল জীবিত ছিলেন ততদিন সংকেতে বা লিখে লিখে সমাগত ভক্তদের কাছে মনের ভাব প্রকাশ করতেন। তাঁর তপস্যার প্রভাবে ভূতনাথ মহাদেবের আবির্ভাব ঘটেছিল বলে, তাঁকে লোকে ভূতনাথ বাবা বলে ডাকতেন।


এই মহাযোগীর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল, তাঁর সামনে কেউ এসে পৌঁছালেই সেই ভক্তের মনে এবং জিহ্বায় আপনা হতেই মহাদেবের একাক্ষরী মহাবীজ স্ফুরিত হত।


কালক্রমে তাঁকে কেন্দ্র করেই একটি বিরাট আখড়া গড়ে ওঠে। আখড়ার নাম হয় ভূতনাথ আখড়া। রুখড়, সুখড় এবং অগন নামক আখড়া এই ভূতনাথ আখড়ারই অন্তর্গত। তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যরা কারিগরী কৌশলে ভূতনাথ মন্দিরের চারদিকে সারি সারি গাছ লাগিয়ে "লক্ষ্মৌ এর ভুলভুলাইয়া" নির্মাণ করেছিলেন। সেইসব গাছপালা ক্রমে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। "লক্ষ্মৌ এর ভুল ভুলাইয়াতে" প্রবেশ করে সাধারণ যাত্রী যেমন বিভ্রান্ত হয়, সঠিক পথ সহজে খুঁজে পায় না, তেমনি ভূতনাথের জঙ্গলে প্রবেশ করে পথ খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য।


রুদ্রপিশাচ বা ভূত প্রেতাদির গল্প সম্পূর্ণ কুসংস্কার প্রসূত। যেখানে ভূত আছে সেখানে ভূতনাথও আছেন।



https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191