Tuesday, March 12, 2013

ব্রহ্মানন্দদেব:---


'প্রায়  উনিশ  শত  বৎসর  পূর্বে  গঙ্গাসাগর  সঙ্গমের  নিকট  ক্ষুদ্রকায়  কাকদ্বীপে  আদিগুরু  মহাযোগী  অতিবৃদ্ধ  ব্রহ্মানন্দদেব  বাস  করতেন। তাঁর  আশ্রমের  নাম  ছিল 'আনন্দমঠ'


সেই  আনন্দমঠে এক  বিশাল  বটবৃক্ষমূলে এক বিশাল  প্রস্তর  খণ্ডের  উপর  তিনি  বসে  থাকতেন। তাঁর  কোন  কুটীরও  ছিল  না।গ্রীষ্মের  দাবানল  বা  শীতের প্রকোপও  তিনি  গ্রাহ্য  করতেন  না।  


সেই  মহাযোগী  দীর্ঘকাল  নর্মদাতটের  হিরণফালে  এসে  তপস্যা  করেছিলেন। দীর্ঘকাল  তপস্যা  করার  পর  তিনি  নিজ  মাতৃভূমি ঐ  কাকদ্বীপে  ফিরে  যান। সাগর- সঙ্গমে  যাঁরা  যান, তাঁরা  যেমন  কপিলমুনির  আশ্রমে  গিয়ে  প্রণাম  করতেন, তেমনি  ঐ ব্রহ্মানন্দদেবের  শিলাতলেও  শ্রদ্ধার্ঘ্য  নিবেদন  করে  আসতেন'।


একবার  স্বয়ং শঙ্করাচার্য  অদ্বৈতবাদ  প্রচার  করতে  করতে বাংলাদেশে  পৌঁছে  কাকদ্বীপে  গিয়ে  আদিগুরু  ব্রহ্মানন্দদেবের  নিকট বিচার  প্রার্থনা  করে  বসেন। তিনি  বলেন--- মহাত্মন! আমি  দক্ষিণদেশ  জয়  করে  রামেশ্বর  ক্ষেত্রে  শৃঙ্গেরী  মঠ  প্রতিষ্ঠা  করেছি যুধিষ্ঠিরাব্দ  ২৬৪৮  সালে।
ঐ মঠের মহাবাক্য--"তত্ত্বমসি"।

পশ্চিম  প্রদেশ  জয়  করে  যুধিষ্ঠিরাব্দ  ২৬৫০  সালে  সারদা  মঠ  প্রতিষ্ঠা  করেছি।
ঐ মঠের মহাবাক্য--"অহং ব্রহ্মাস্মি"।

আর্যাবতের  উত্তরপ্রদেশে  অদ্বৈতমতের  বিচারে  জয়লাভ  করে  বদরিকার মুক্তিক্ষেত্রে  যোশী মঠ  বা  জ্যোতির্মঠ  প্রতিষ্ঠা করেছি ২৬৫২ সালে।ঐ মঠের মহাবাক্য--"অয়মাত্মা  ব্রহ্ম"। এখন  আপনাকে  বিচারে  পারভূত  করে  বঙ্গদেশে  অদ্বৈতমতের  চতুর্থ  মঠ  প্রতিষ্ঠার  উদ্দেশ্যে  আপনার  সঙ্গে  বিচার  প্রার্থনা  করি।


আচার্য  শংকরের  কথা  শুনে  মহাযোগী  বলেন--- বৎস! তাহলে  তুমি  স্পষ্ট  করে  বল  তোমার  বিচার্য  বিষয়  বেদান্তের  অদ্বৈতবাদ।

আচার্য --- হ্যাঁ, পূর্বেই  স্পষ্ট  করে  বলেছি, আমার  বিচার্য  বিষয়  অদ্বৈতবাদ।


মহাযোগী --- বৎস! তোমার  যথার্থ  অদ্বৈতঞ্জান  জন্মাতে  এখনও  বহু  বিলম্ব।


শংকর --- আপনি  কি  করে  তা  জানছেন, তা  খুলে  বলুন।


মহাযোগী --- বৎস! প্রকৃত অদ্বৈতবাদ  বুঝলে, অদ্বৈত  ব্রহ্মতত্ত্বে  প্রতিষ্ঠিত  হতে  পারলে, তুমি  তোমার  এবং  আমার  মধ্যে  কোন  প্রভেদ  দেখতে  পেতে  না, তুমি এবং আমি  যে  দুটি  স্বতন্ত্র  জীব এ  বোধ এখনও তোমার  যায়  নি। তাই  তুমি  আমাকে  বিচার  যুদ্ধে  আহ্বান  করতে  পারছ। তোমার  দ্বৈতঞ্জান  এখনও  তিরোহিত  হয়নি  বলেই  তুমি  দ্বিতীয়  ব্যক্তিকে  তোমা  হতে  স্বতন্ত্রঞ্জানে  বিচারে আহ্বান করছ।যখন  তোমার  দ্বৈতভাব  চলে  যাবে  তখন  তোমাতে  আমাতে  সর্বভূতে  কোন  পার্থক্য  দেখতে  পাবে  না। তখন  দেখবে  চারিদিকে  এক  খণ্ড  ব্রহ্ম, জগৎময়  অদ্বৈত  ব্রহ্মলীলা। আমি  বোধ  গেলেই  তুমি  বোধ  আসে, আমিত্ব  ঘুচে  গেলেই  তুমি  আসে। তুমি  ছাড়া  আমি  নাই, আমি  ছাড়া  তুমি  নাই---



তুঁ  তুঁ  করতা  তুঁহি  রহা  মুঝ্‌মে  তুহিনা  হুঁ।
বলিহারি  তেরে  রূপ  কি  যিৎ  দেখুঁ  তিৎ  তুঁ।

অর্থাৎ  তুমি  তুমি  করতে  করতে  আমি  তুমিময়  হয়ে  গেছি, তুমি  ছাড়া  আর  কিছু  দেখতে  পাচ্ছি  না  আমার  মধ্যে।  তুমি  ছাড়া  আর  কোথাও  কিছু  খুঁজে  পাচ্ছি  না। আমার  আমিত্ব  লুপ্ত  হওয়ায়  আমি  তোমার  স্বরূপত্ব  প্রাপ্ত  হয়েছি। প্রভু, তোমার  রূপের  বলিহারি  যাই, যে  দিকেই  দৃষ্টি  পড়ে, দেখি  সেখানেই  তুমি --- তুমি  ছাড়া  জগতে  আর  কিছু  নাই।

মহাযোগীর  কথার  মর্ম  উপলব্ধি  করে  শঙ্করাচার্য  অভিভূত  হয়ে  পড়েছিলেন। তিনি  মহাযোগীর  পদধূলি  নিয়ে  বলে  উঠেন ---বাংলাদেশে  পৃথক  কোন  মঠ  স্থাপনের  কোন  উপযোগীতা  দেখছি  না,  আপনার  আনন্দমঠের  কীর্তি  চারদিকে  ঘোষিত  হোক।

এই  বলে  শংকরাচার্য  কাকদ্বীপ  ত্যাগ  করে  পূর্বদিকে  পুরীতে  গিয়ে  জগন্নাথ  ধামে  সমুদ্রতীরে  তাঁর  চতুর্থ  মঠ  গোবর্ব্ধন  মঠ  স্থাপন  করেন।


অতিবৃদ্ধ  মহাযোগীর  আনন্দমঠই  ছিল  শৈবাগম  তন্ত্রের  পীঠস্থান।



https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191

Friday, February 22, 2013


মাতাপিতাই  জন্মদান  করেছেন, তাঁরাই  পালন কর্তা, সন্তানের  কাছে তাঁরাই  ব্রহ্মস্বরূপ। অতএব  তাঁদেরকেই  প্রণাম  করি, তাঁদেরই  পূজা করি। সাক্ষাৎ  দেবতাকে  পরিত্যাগ  করে  যে  ব্যক্তি  অসাক্ষাৎ অদৃশ্য দেবতার  সেবা  করে  সেই  পাপাত্মা  পরলোকে  তির্যগ্‌যোনি  প্রাপ্ত হয়। পিতা  সর্বদেবের  আবাসভূত  সুমেরু  পর্বত  হতে  শ্রেষ্ট, তিনি সাক্ষাৎ  সনাতন  ধর্মের  মূর্তিস্বরূপ, অতএব  তাঁর  পাদোদক  স্নানের যে  ফল, তার  ষোড়শাংশও  গঙ্গা  স্নানে  হয়  না। কাশী  ওঁকারেশ্বর প্রভৃতি  মুক্তিক্ষেত্রাদিতে  শতশত  জ্যোতির্লিঙ্গ  দর্শনে  যে  ফল  হয়, পিতামাতা  দর্শনের  ফল  তার  কোটিগুণের  অধিক। দ্বাত্রিংশ  সংখ্যক শালগ্রাম  শিলা স্পর্শে  যে  ফল, পিতামাতাকে প্রদক্ষিণ  করলে তার কোটিগুণ  ফল  লাভ  হয়।

https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191

Tuesday, February 12, 2013


তারকব্রহ্ম নাম 'রাম' শব্দ ঔর 'ওঁ' বরাবর একই জিনিষ।

যথৈব বটবীজস্থ প্রাকৃতশ্চ মহাদ্রুমঃ।
তথৈব রামমন্ত্রস্থ বিদ্যতে চরাচরং জগৎ।।

অর্থাৎ যেমন বটগাছের একটি বীজের মধ্যে ঐ বিরাট মহীরুহের শাখা প্রশাখা পাতা ও ফল সুপ্ত থাকে, তেমনি রাম শব্দের মধ্যে এই বিশ্ব চরাচর সুপ্ত আছে।

তাই 'রাম' শব্দ বিশ্লেষণ করলে পাই---

রাম = র্‌ + আ + ম্‌ +অ।
= র্‌ + অ + অ + ম্‌ + অ।।

স্বরবর্ণ মাত্রই পুংলিঙ্গ এবং স্বাধীন। ব্যঞ্জনবর্ণ মাত্রই  স্ত্রীলিঙ্গ, পরাধীন।


'আদ্যন্ত বিপর্যয়শ্চ'---পাণিনির এই সূত্রানুসারে বিশ্লেষিত 'রাম' শব্দের 'অ' সামনে এল।  তাহলে দাঁড়াল---অ + র্‌ + অ + অ + ম্‌। ব্যাকরণের নিয়ম হচ্ছে যে, যদি কোন শব্দের 'র' বর্ণে্র পূর্বভাগে এবং উত্তরভাগে যদি 'অ' বসে তবে তার 'র' বর্ণ 'উ' বর্ণে পরিণত হয়। 


ফলে রাম শব্দের অন্ত্যভাগের র্‌ + অ = উ হয়ে যায়।

অ + র্‌ + অ = উ
অর্থাৎ উ + অ = ও হল।।
ও + ম্‌ = ওম্‌  বা  ওঁ হয়ে গেল।।

এইভাবে রাম শব্দের মধ্যে "ওঁ" লুক্কায়িত আছে। তাই ঋষিদের উপলব্ধি ওঁকারতত্ত্ব মনন করলে যেমন কোন বস্তুই অপ্রাপ্ত থাকে না, 'রাম' শব্দ মনন করলেও কোন বস্তুই অপ্রাপ্ত থাকে না। ওঁকার যেমন মোক্ষ দান করে 'রাম' এই সিদ্ধ শব্দও মোক্ষ দান করে। তাই রামমন্ত্রকে বলা হয় তারকব্রহ্ম নাম।



https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191

Monday, January 28, 2013

পরশুরাম কে?


পরশুরামকে  নিয়ে  মহাভারত  এবং  বিভিন্ন  পুরাণে  নানা  আখ্যায়িকা  বর্তমান। তিনি  যে  পিতৃহত্যার  প্রতিশোধ  নেবার জন্য  একুশবার  পৃথিবীকে  নিঃক্ষত্রিয়  করেছিলেন  একথা  ভারতের  আবালবৃদ্ধবণিতা  পুরাণের  কল্যানে  জেনে  গেছেন। ইক্ষুকুবংশের  মহারাজা  সগরের  (৫০২০ খ্রীঃ পূঃ)  আমলে  তিনি বিদ্যমান  ছিলেন  আবার  সগর  হতে  ছাব্বিশ  পুরুষ  অধঃস্তন  রামচন্দ্রকে (৪৫০০ খ্রীঃ পূঃ)  হরধনুভঙ্গের  অপরাধে  দণ্ড  দিতে  তাঁর  পথ  অবরোধ  করে  দাঁড়ায়েছেন, রামায়ণে  বাল্মীকি  তা  বর্ণনা  করেছেন।


ব্যাসদেব  বর্ণনা  করেছেন  কুরুক্ষেত্রের  যুদ্ধের (৩৯০০ খ্রীঃপূঃ)  মহারথী  ভীষ্মের  সঙ্গে  এই  পরশুরাম  যুদ্ধ  করেছিলেন, মহবীর  কর্ণকে  ব্রহ্মাস্ত্র  শিক্ষা  দিয়ে  পরে  অভিসম্পাতও  দিয়েছিলেন।


এই  তিনটি  ঘটনা  সত্য  হলে  পরশুরাম ( ৫০২০---৩৯০০ )= ১১২০  বৎসরেরও  অধিককাল  বেঁচেছিলেন। একথা  বিশ্বাস  করতে  হয়। কিন্তু  কোন  নরদেহধারী  জীবের  পক্ষেই  এতকাল  বেঁচে  থাকা  সম্ভব  বলে  মনে  হয়  না। যদি  বলা  হয়  যোগবলে  সব  অসম্ভবকেই  সম্ভব  করা  যায়, তবে  একথাও  মনে  জাগে, এইরকম  মহাযোগেশ্বরের  পক্ষে  কি  সবসময়  রণং  দেহি  ক্রুদ্ধমূর্তি  নিয়ে  বারংবার আবির্ভূত  হওয়া  সম্ভব?  যোগ  আর  যুদ্ধ--- দু'টি  বিপরীত  মেরুর  বস্তু !


পরশুরাম  ১১২০  বৎসরের  অধিককাল  বেঁচেছিলেন একথা  ভক্ত  ও  সরলবিশ্বাসী  ছাড়া  আর  কারও পক্ষে  বিশ্বাস  করা  সম্ভব  নয়। কিন্তু  যদি  পরশুরামকে  একটি  ধর্মমত  বা  একটি  বিশিষ্টপুরুষানুক্রমিক  ঐতিহ্যবাহী  ধারা  বলে  ধরা  হয়, তাহলে  পরশুরামের  অনুবর্তী  পরশুরামগণের  পক্ষে  সহস্রাধিক  বৎসর  বেঁচে  থাকতে  কোন  অসুবিধা  হয়  না। কারণ  কোন  ধর্মমতের  তথা  ধর্মসম্প্রদায়ের  পরমায়ু  সহস্র  বৎসর  হতে  কোন  বাধা  নেই।


আধুনিক  কালের  কোন  লেখক  যদি  খ্রীষ্টধর্মের  বা  ইসলামধর্মের  ইতিবৃত্ত  রচনা  করতে  গিয়ে  যদি  লেখেন  যে  খ্রীষ্টের  বা  হজরত  মহম্মদের  বয়স  যথাক্রমে  ২০০০  ও ১৪০০  বৎসর  হয়েছে, তাহলে  এ যুগের  লোকদের  মনে  যেমন  কোন  সন্দেহ  বা  বিস্ময়ের  সঞ্চার  হবে  না--- সেকালেও  তেমনি  পরশুরাম  রাবণ  নারদ  প্রভৃতির  দীর্ঘজীবিতায়  কেউ  কোন  সন্দেহ  বা  অবিশ্বাসের  ভাব  পোষণ  করতেন  না।  কারণ, তাঁদের  প্রত্যেকেই  যে  এক  একটি  ধর্মমত  বা  পূর্বাপর  ঐতিহ্যের  code  mark  মাত্র, তা  তাঁরা  ভালভাবেই  জানতেন।


এই  দৃষ্টিকোণ  থেকে  বিচার  করলে  পরশুরামের  একুশবার  ক্ষত্রিয়বর্গ  নিধন  বা  নিঃশেষের  গুঢ়ার্থ  এই  যে, পরশুরাম  অর্থাৎ  তাঁর  অনুবর্তী  পরশুরামগণ  বারবার  মনুষ্য  সমাজকে  রাজন্যনিয়ন্ত্রণ  ব্যবস্থা  বা  ক্ষাত্রশাসনের  যন্ত্রণা  হতে  মুক্ত  করেছিলেন।


ভারতের  ধর্ম-ইতিহাস  পর্যালোচনা  করলে  দেখা  যায়  সে  যুগে কোন  পক্ষ  গুরুতন্ত্র  অর্থাৎ  গুরুতান্ত্রিক  সমাজব্যবস্থা, কোন  পক্ষ  দ্বৈততন্ত্র, কোন  পক্ষ  বা  রাজতন্ত্রের  পক্ষপাতী  হয়ে  পড়েছিলেন। পরশুরামগণ  ছিলেন  গুরুতন্ত্রের  পক্ষপাতী।


এইজন্য  তাঁরা  ক্ষাত্রশাসন  বা  নির্জলা  রাজতন্ত্রের  ঘোরতর  বিরোধী  ছিলেন  এবং  সুদীর্ঘকাল  ধরে  ভারতবর্ষীয়  ক্ষাত্রতন্ত্রের সঙ্গে  পরশুরামগণের  যে  ধর্মযুদ্ধ  চলেছিল  তারফলে  বারংবার  ক্ষাত্রনিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থার  উচ্ছেদ  ও  বিলুপ্তি  ঘটেছিল। এ ঘটনা  ঐতিহাসিক  সত্য বলেই  সেকালের  পুরাণকাররা  নানা  রোমাঞ্চকর  গল্পের  মাধ্যমে  বলে  গেছেন  যে  পরশুরাম  একবিংশতিবার  পৃথিবীকে  নিঃক্ষত্রিয়  করেছিলেন।



https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191

Tuesday, January 1, 2013


"ন  মন্ত্রং  নো  যন্ত্রং  তদপি  চ  ন  জানে  নূতি  মহো
ন  চাহ্বানং  ধ্যানং  তদপি  চ  ন  জানে  স্তুতিকথাঃ।
ন  জানে  মুদ্রান্তে  তদপি  চ  ন  জানে  বিলপনং  
পরং  জানে  মাতস্ত্বদনুসরণং  ক্লেশ  হরণং।।"

'অহো,  আমি  যন্ত্র  মন্ত্র  জানি না, এমন  কি  স্তুতিও জানি  না; আবাহন ও ধ্যানও  জানি  না। তোমার  মুদ্রা এমন  কি  তোমার যথার্থ  মন্ত্রও  জানি  না, কি  ভাবে  তোমার  কাছে  আর্তি  ও কাতরতা  জানাতে  হয়, তাও  আমাদের  জানা  নাই। কিন্তু  মা, একথা  ভালভাবেই  জানি  যে  তোমার  স্মরণ  নিলে  দুঃখ  নাশ  হয়।


"নমো  নর্মদে  মাতু  ঈশান  তন্যা
নমো  শর্মদে  বর্মদে  দেবি  ধন্যা।
কলিকাল  গঙ্গে  সে  তেরি  বিশোষা,
কথৈঁ  মাহাত্ম্য  মানৌ  দেবা  সুরেশা।।"

অর্থাৎ  মা  নর্মদে!  তুমি  ঈশান  মহেশ্বরের  তনু  হতে  জাত। তুমি একাধারে  সুখদাত্রী  এবং  জীবের  রক্ষাকর্ত্রী। ধন্য  তোমার  করুণা। কলিকালে  গঙ্গার  চেয়ে  তোমার  মহিমা  বেশী। তোমার  এই বিশেষত্বের  কথা, সমস্ত  দেবতা, এমন  কি  স্বয়ং  সুরেশ্বরও  মেনে থাকেন। হর  নর্মদে।


https://www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191

Wednesday, November 28, 2012

মুণ্ডমহারণ্য  কোলে  নর্মদার  তটে
দেখিলাম  সে  কী  দৃশ্য  ভয়াল  ভীষণ!
পথহারা  অসহায়, সে  কী  কষ্ট,  সে কী  ভয়,
ভাবিলাম  ঘটে  বুঝি  এখনই  মরণ!
দু'দিকে  পাহাড়-চূড়া
মধ্যে  গিরিখাদ,
তলদেশে  লোকে  বলে----
কপিল- আশ্রম  আছে
পাহাড়ের  ছাদ।
হিমাঙ্কের  নীচে  শীত
রক্ত  জমে  হিমের  প্রবাহে,
হ'তেছে  তুষারপাত
পিচ্ছিল  খাদের  পথে
পড়িনু গড়ায়ে।
আকাশের  পানে  চাই---
দেবতার  চিহ্ন  নাই,
কুণ্ডলিছে  অন্ধকার---গাঢ়  নিরাশ্বাস;
পদে  পদে  উঠি  পড়ি
দেখি  পিতঃ,  করে  ধরি
দিতেছ  হৃদয়  ভরি  মমতা  আশ্বাস।
দেবতা  না  দেখিলাম---
তুমি  এলে  বাঁচিলাম,
বাঁচিলাম  সে  সঙ্কটে  তোমারই  অভয়  বরে;
শুনাইলে, 'ভয়  নাই  আর
ভয়  নাই,  ভয়  নাই---
আমি  আছি,  আমি  আছি,  আমি  আছি  ওরে'!



Friday, October 19, 2012


আকাশ  আমায়  শিক্ষা  দিল  উদার  হতে  ভাইরে,
কর্মী  হবার  মন্ত্র  আমি  বায়ুর  কাছে  পাইরে।
পাহাড়  শিখায়  তাহার  সমান  হই  যেন  ভাই  মৌন  মহান,
খোলা  মাঠের  উপদেশে  দিলখোলা  হই  তাইরে।
সূর্য  আমায়  মন্ত্রণা  দেয়  আপন  তেজে  জ্বলতে,
চাঁদ  শিখালো  হাসতে  মিঠে, মধুর  কথা  বলতে।
ইঙ্গিতে  তার  শিখায়  সাগর, অন্তর  হোক  রত্ন  আকর,
নদীর  কাছে  শিক্ষা  পেলাম  আপন  বেগে  চলতে।
মাটির  কাছে  সহিষ্ণুতা  পেলাম  আমি  শিক্ষা,
আপন  কাজে  কঠোর  হতে  পাষাণ  দিল  দীক্ষা।
ঝরণা  তাহার  সহজ  গানে  গান  জাগালো  আমার  প্রাণে,
শ্যামবনানী  সরসতা  আমায়  দিল  ভিক্ষা।
বিশ্বজোড়া  পাঠশালা  মোর, সবার  আমি  ছাত্র,
নানান  ভারে  নতুন  জিনিষ  শিখছি  দিবারাত্র।
এই  পৃথিবীর  বিরাট  খাতায়  পাওনাটা  যে  সব  পাতায়  পাতায়,
শিখছি  সে  সব  কৌতুহলে  সন্দেহ  নাই  মাত্র।