Tuesday, July 12, 2016
Monday, June 20, 2016
"অতীতের নেপথ্য হইতে
অযাচিত করুণার মত
এসেছিলে হাসিতে হাসিতে
ভুলাইতে পথক্লেশ যত।
কি জানি, কি রহস্য জড়িত,
এই অন্ধ মানব-জীবন!
কোন দিব্য-প্রেমে নিয়ন্ত্রিত,
পর কেন হয় গো আপন?
অজানিত অতিথির কাছে
মুক্ত করি হৃদয়-ভাণ্ডার,
সুখ দু:খ সঞ্চিত যা আছে,
সমাদরে দিলে উপহার!
নিরাশায় হয়ে প্রতিহত
তব পাশে আসিনু যখন;
মায়াময়ী জননীর মত
স্নেহাঞ্চলে করিলে ব্যজন।
যদি এই আশ্রিতে তোমার,
হেরিয়াছ স্নেহের নয়নে;
তবে এরে ভুলিও না আর ---
Wednesday, June 1, 2016
শাস্ত্রে, যোগীর দুর্ঞ্জেয় যোগবলের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে ---
যদ্ দুষ্করং যদ্ দুরাপং যদ দুর্গং যচ্চ দুস্তরম্।
সর্বং তৎ তপসা সাধ্যং তপো হি দূরতিক্রমম্।।
অর্থাৎ যা কিছু দুঃসাধ্য, দুর্লভ, দুর্গম এবং দুস্তর --- সে সকলই তপস্যার দ্বারা লাভ করা যায়। তপস্যার শক্তি অলঙ্ঘ্য। যোগীর যোগবল সাধারণ মানুষের ঞ্জানবুদ্ধির অগোচর। ভৃগু, দুর্বাশা, বিশ্বামিত্র, অগস্ত্য প্রভৃতি ঋষিদের যোগবলের কাছে রাজচক্রবর্তী ও সম্রাট থেকে আরম্ভ করে দুর্ধর্ষ দেব দৈত্য রাক্ষসরা পর্যন্ত নতশির থাকতেন। তপোসিদ্ধ মহাযোগীরা প্রকৃতির অধীন নন, তাঁরা প্রকৃতির নিয়ামক বা অধীশ্বরের সঙ্গে নিত্যযুক্ত থাকার ফলে তাঁরা ইচ্ছা করলে প্রকৃতিকেও নিয়ন্ত্রন করতে পারেন। পাতঞ্জল যোগদর্শনে যোগীর এই শক্তি বা বিভূতিকে বলা হয়েছে --- প্রকৃতি-বশিত্ব। প্রকৃতি-বশিত্ব যাঁদের করায়ত্ত থাকে, তাঁরা সহসা প্রকৃতির উপর হস্তক্ষেপ করেন না, প্রাকৃতিক নিয়মের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই বিধি।
www.twitter.com/tapobhumi30
www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191
www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com
Tuesday, March 22, 2016
দোলযাত্রার পুণ্যক্ষণে "মা নর্মদার" কৃপাধন্য "তপোভূমি নর্মদা"র লেখক স্বর্গীয় শৈলেন্দ্রনারায়ণ ঘোষাল শাস্ত্রীজীর জন্মদিনে তাঁকে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম
হোম আরতি ঘি এর বাতি তপতপস্যার আড়ম্বর,
জপবো না নাম ন্যাস প্রাণায়াম করব নাকো অতঃপর।
কাজ কি মিছা জঞ্জালে,
কী হবে মোর চক্ষু মুদে
আসন পেতে বাঘছালে?
তুমিই আমার স্বর্গপিতঃ!
তুমিই আমার দেবতাগো
দাও চরণের পুণ্যধূলি
আশিস্ তোমার মহার্ঘ!
Monday, March 21, 2016
"কোটেশ্বর তীর্থ" ---
নর্মদার উত্তরতট, দক্ষিণতট মিলিয়ে পাঁচটি কোটেশ্বর তীর্থ আছে। এটি নর্মদার উত্তরতটে অবস্থিত। মন্দিরের যাওয়ার পথ খুবই দুর্গম। পথের উপর, গাছের গোড়াতে দুই তিন হাত পর্যন্ত পলিমাটি জমে থাকায় স্পষ্ট বোঝা যায় নর্মদায় যখন জোয়ার আসে এই সব স্থান ডুবে যায়। বড় বড় গাছপালায় ঢাকা বলে কোটেশ্বরের প্রস্তর নির্মিত সুপ্রাচীন মন্দির তট থেকে চোখে পড়ে না। মন্দির চত্বর বিশাল। মন্দিরে পূজিত শিবলিঙ্গটি খুবই জাগ্রত। মন্দিরের গর্ভগৃহে সূর্যের কিরণ প্রবেশ করে না। গর্ভগৃহের দরজা সব সময় বন্ধ থাকে। পূজা করে গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ করে দিতে হয়। মন্দিরের গর্ভগৃহের আয়তনের চেয়ে মন্দিরের বারান্দা অনেক বেশী প্রশস্ত। বারান্দা থেকে প্রশস্ত বাঁধানো সিঁড়ি ধাপে ধাপে নেমে গেছে। মন্দিরটি গাছপালায় ঢাকা বলে পরিক্রমাবাসী সাধুরা গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেন। এই মন্দিরের পিছনে, আশে পাশে পরিক্রমাবাসী সাধুরা থাকেন।
মন্দিরে পূজিত শিবলিঙ্গটি হল আগ্নেয় লিঙ্গ। এই আগ্নেয় লিঙ্গের বৈশিষ্ট্য হল ---
"আরুণং হিত্য কীলালমুষ্ণস্পর্শং করোত্যলম্।
আগ্নেয়ং তচ্ছক্তিনিভমথবা শক্তিলাঞ্ছিতম্।
ইদং লিঙ্গবরং স্থাপ্য তেজসাধিপতির্ভবেৎ।।"
আগ্নেয় লিঙ্গ অরুণ বর্ণের মত লাল হয়, করতলে উষ্ণ স্পর্শ লাগে, লিঙ্গের মধ্যে অর্ধনারীশ্বর বা শক্তির চিহ্ন স্পষ্ট অঙ্কিত থাকে। এই লিঙ্গ যিনি স্থাপন করেন স্থাপয়িতা তেজের অধীশ্বর হন।
www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191
Saturday, March 12, 2016
মহাদেব বিষপান করেও মৃত্যুঞ্জয় হয়েছেন কেন!
একে শূলী, তায় জ্বলে গলায় গরল
যন্ত্রণায় তাই শিব হইয়া বিহ্বল,
অপর্ণা পার্বতী মহারোগ-বিনাশিনী
একমাত্র ঔষধিরে সার মনে গণি,
মহানন্দে লইলেন তাঁহারি আশ্রয়
সে অবধি হয়েছেন ভবে মৃত্যুঞ্জয়।
মহাদেব বিষপানকালে প্রাণের আশঙ্কা করেন নি কেন!
স্বয়ং শিব আছে এই ভবে
বিষপানে মৃত্যু হলে শিবত্বই রবে
পবিত্র জাহ্নবী-জল স্পর্শ যদি করে
শবের শিবত্ব হয়, জানি এ সংসারে।
যে শিবত্ব সে শিবত্ব থাকিতে আমার,
বিষপানে তবে মোর ভয় কিবা আর?
গঙ্গাধর মনে মনে ইহাই বিচারি
বিষপান করিলেন আশঙ্কা না করি!
মহাদেবের মাথায় চন্দ্র কেন!
ঢলঢল করিতেছে শিরে গঙ্গাজল
ধক্ ধক্ জ্বলিতেছে নয়নে অনল।
জল অনলের শত্রু, পাছে তথা গিয়া।
নির্ঝণ করিয়া দেয়, ইহাই ভাবিয়ে,
চন্দ্রকলা গিয়া সেই শঙ্করের শিরে,
মধ্যস্থ হইয়া আছে চিরদিন ধরে!
অন্নপূর্ণা যাঁর গৃহিনী, সেই মহাদেব ভিক্ষা পাত্র হাতে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করেন কেন!
অন্নদানে ত্রিসংসারে রাখিবার তরে
ভগবতী অন্নপূর্ণা নিত্য যাঁর ঘরে,
লইয়া মড়ার মাথা তবু সেই হর
দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে হইয়া কাতর !
ললাটের বিধিলিপি যেবা করে লয়?
মহাদেব কালীর চরণ বক্ষে ধারণ করেছেন কেন!
দেবগণ করে যবে সমুদ্র মন্থন,
পরম প্রচণ্ড বিষ উঠিল তখন।
চুক্ চুক্ করি সেই বিষপান করি,
ছট্ফট্ করে হর বহুকাল ধরি।
অবশেষে বুঝে কালী-চরণ-কমল
একে মুক্তিপ্রদ, তায় পরম শীতল;
আনন্দে মাতিয়া তাই দেব দিগম্বর
কালীপদ-যুগ নিজ বক্ষের উপর
রাখিয়া পরম সুখে বিভোর হইয়া
দুর্জয় বিষের জ্বালা গিয়াছে ভুলিয়া।
ছাড়িলে বিষের জ্বালা পুনঃ বেড়ে যায়,
অদ্যাপি শঙ্কর তাই ছাড়িতে না চায়।
www.twitter.com/tapobhumi30
www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191
www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com
Sunday, February 28, 2016
"স্বামী ভোলানন্দ তীর্থ" ---
কামরূপ মঠের উত্তরাধিকারের যোগ্যতম উত্তর সাধক ছিলেন --- স্বামী ভোলানন্দ তীর্থ। এঁর পূর্বাশ্রমের নাম ছিল ভোলানাথ মুখোপাধ্যায়। জন্মস্থান --- বর্ধমান। সংসারে তাঁর একমাত্র বন্ধন ছিলেন মা। মায়ের দেহান্তের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বর্ধমান, পুরী, ভুবনেশ্বর, হরিদ্বার, কাশী ও প্রয়াগ প্রভৃতি স্থানের ১২ খানি অট্টালিকা এবং নগদ ৩ লক্ষ টাকা চতুষ্পাঠী স্থাপন এবং সৎ কাজের জন্য দান করে দিয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। সন্ন্যাস গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে কামরূপ মঠের যে গুফাটিতে আশ্রয় নেন, সেখানে থেকে রাত্রি ৩টে একমাত্র গঙ্গা স্নান ছাড়া অন্য কোন কারণেই মঠের বাইরে যেতেন না। মঠের পেছনে প্রায় দুইশত গজ দূরেই গোধূলিয়ার মোড়। কিন্তু তিনি তাঁর সুদীর্ঘ ৬২ বৎসরের সন্ন্যাস জীবনে গোধূলিয়া দেখেন নি। পবিত্র সন্ন্যাস-ধর্ম যে কী কঠিনতম ব্রত, তা অজগর-বৃত্তিধারী এই মহাতপা যোগীর পুণ্যজীবন দেখলে তবেই মর্মে মর্মে অনুভব করা যায়।
তাঁর জীবন-দর্শনের আভাষ ---
ভারত বিখ্যাত মহামহোপাধ্যায় বামাচরণ ন্যায়াচার্যের পুত্র পণ্ডিত গোপাল ন্যায়াচার্য একদিন স্বামীজীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। তিনি ছিলেন, তাঁর ভগ্নীপতি কবিরাজ নিবারণ ভট্টাচার্যের প্রতিষ্ঠিত দিল্লী আয়ুর্বেদিক ফার্মেসীর কর্মাধ্যক্ষ। দিল্লী ও উত্তরপ্রদেশের নানা স্থানে তার শাখা প্রশাখা আছে। এই কবিরাজী দোকানের কাজে তাঁরা বহু অর্থ উপার্জন করেছিলেন। তিনি স্বামীজীকে বললেন --- 'তোমার আশীর্বাদে আমরা বহু অর্থ উপার্জন করেছিলাম, অহংকারে তোমাকে মানিনি, আজ বড় দুঃসময়, গতবছর থেকে আমরা ব্যবসায়ে মার খাচ্ছি। তুমি আশীর্বাদ কর। আমাদের পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে দাও।'
স্বামীজী --- সে কি ভগবন্। আমি আবার তোমার ভাগ্য ফিরালুম কবে? আমি নিজে ভিখিরি, বিশ্বনাথের দুয়ারে পড়ে আছি। ভিখিরি আবার টাকার সন্ধান জানবে কি করে? তুমি তোমার কর্ম অনুযায়ী ফল পেয়েছ বা পাচ্ছ। অতবড় পণ্ডিতের ছেলে তুমি, পাছে টাকার প্রয়োজনে অন্য কোন বৃত্তি তুমি অবলম্বন করে ফেল, এজন্য বলেছিলাম সংস্কৃত জান যখন, আয়ুর্বেদের চর্চা করে বিশুদ্ধ কবিরাজী ঔষধের দোকান কর। আশা ছিল --- তোমার সংসারের প্রয়োজনও মিটবে আর ...... আর যে বিরাট প্রতিভা থেকে তোমার জন্ম, হয়ত একদিন তোমার হাত দিয়ে কোন বিস্ময়কর ওষুধও বের হয়ে যেতে পারে। নতুবা আমার মত ভিখিরি, টাকার সুলুক-সালুক কি করে জানবে ধন? ছিঃ বাবা, সন্ন্যাসীর কাছে টাকা চাইতে নেই, টাকা দিতে নেই, টাকার প্রসঙ্গ তুলতে নেই।
স্বামীজীর এই কথা শুনে গোপালবাবু বড় কাতর হয়ে পড়লেন। কিছু পরে স্বামীজী উঠে পড়লেন। বললেন চল ভগবন্, উপরে লাইব্রেরী ঘরে যাই। তিনতলায় ছাদের উপর তখন মঠ সংলগ্ন একটা অশ্বত্থ গাছের ছায়া পড়েছে। সূর্যাস্ত হতে তখন বেশী দেরী ছিল না। হঠাৎ স্বামীজী গোপালবাবুকে জিঞ্জেস করলেন --- ' ভগবন্! এই যে এখানে দাঁড়িয়ে আছি, একটু আগে এখানে রোদ ছিল, এখন ছায়া পড়েছে। এই যে ছায়া এটা কি সূর্যের জন্য, না কালের জন্য?
গোপাল --- কালের জন্য। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। তাই ছায়া।
স্বামীজী --- আবার রোদ আসবে?
গোপাল --- হ্যাঁ, আবার রাত্রি গত হলে কাল সকালে এইখানে রোদ আসবে।
স্বামীজী --- তবে দেখ, রোদের পর ছায়া, দিনের আলোর পর সন্ধ্যা --- এই তো নিয়ম। কাল শুভ হয়েছিল, তোমার ঐশ্বর্য হয়েছিল, এখন সন্ধ্যা --- অপেক্ষা কর, আবার ঘুরে ঘুরে সূর্যের আলো এইখানেই এসে পড়বে। এই নিয়ম। এতে কারও হাত নেই। মনে কর, একটা নাচ-উলি, হাসিমুখে নাচ দেখিয়ে চলে গেল সোনারপুরার দিকে। তুমি বসে আছ জঙ্গমবাড়ীতে। এখন তুমি যদি তাকে ঐখানে আটকে রাখতে না পার অথচ তার নাচ দেখবার জন্য আবার যদি ইচ্ছা কর, তাহলে তোমাকে অপেক্ষা করতেই হবে, ঠায় ঐখানটায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে যতক্ষণ না সে নাচ-উলি আবার ঐ রাস্তা দিয়ে ফিরে আসে। আবার এটাও ভেবে দেখা দরকার, ঠিক এই পথ দিয়েই সে আসতেও পারে, নাও পারে। এলেও হাসিমুখে আবার নাচ দেখাবে কিনা তার কোন ঠিক নেই। সবই তাঁর ইচ্ছা ভগবন্।
Monday, February 15, 2016
"কামরূপ মঠ" ---
কামরূপ মঠ হল কাশীর প্রাচীনতম মঠগুলির মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে যেখানে বারাণসী শহর অতি প্রাচীনকালে তার উপর দিয়ে গোদাবরী নদী বয়ে যেত। এই নদী দাক্ষিণাত্যের বিখ্যাত গোদাবরী নয়। কাশীস্থ এই গোদাবরী নদীর উভয়দিকে বিস্তীর্ণ গোচারণ ভূমি ছিল, গোক্ষুরোত্থিত ধূলিতে গোদাবরীর উভয়তীর সমাচ্ছন্ন থাকতো বলে পরবর্তীকালে কাশীর বিখ্যাত কেন্দ্রস্থলটির নাম হয়েছে গোধূলিয়া।
গোদাবরী, বরুণা এবং অসি নদীর সঙ্গমস্থলেই ছিল ব্রহ্মা কর্ত্তৃক অনুষ্ঠিত দশটি অশ্বমেধ যঞ্জের কেন্দ্রস্থল। কালক্রমে নদীগুলি একটু একটু করে স্থান পরিবর্তন করে গঙ্গার সঙ্গে মিশে গেছে।
ব্রহ্মার প্রধান যঞ্জকুণ্ডের উপরেই এই কামরূপ মঠ গড়ে ওঠে। মঠের তাম্রশাসনে দেখা যায়, কামরূপের রাজা চন্দ্রকান্ত সিংহ মবল ১২৩০ শকাব্দে তাঁর গুরু মহাযোগী মহাদেবানন্দ তীর্থের তপস্যা-ক্ষেত্র হিসাবে এই মঠ স্থাপন করেন। এই মঠের আচার্যগণের ত্যাগ ও তপস্যার নানা কাহিনী প্রবাদ বাক্যের মত প্রচলিত। স্মরণাতীতকাল থেকে ভারতের সাধু সমাজে এই মঠ এক অসাধারণ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত।
অদ্বৈতবেদান্ত রাজ্যের যিনি দ্বিতীয় শঙ্করাচার্য, অমূল্য মহাগ্রন্থ অদ্বৈতসিদ্ধিঃ প্রণেতা আচার্য শ্রীমধুসূদন সরস্বতীও এই মঠের তলদেশস্থ ধ্যান গুহায় কিছুদিন বাস করেছিলেন। পুরীর গোবর্ধন মঠের শঙ্করাচার্য, বিশ্ববিশ্রুত অঙ্কবিদ্ এবং বৈদান্তিক শ্রীমৎ স্বামী ভারতী কৃষ্ণতীর্থ মহারাজের গুরুদেব শ্রীমৎ স্বামী মধুসূদন তীর্থজীও ছিলেন এই মঠেরই অনুগত সন্ন্যাসী। তিনি প্রায়ই বলতেন --- 'সন্ন্যাসীর পক্ষে অহমিকা থাকা অপরাধ। কিন্তু যখনই মনে করি যে আমি কামরূপ মঠের সন্ন্যাসী, তখন আমার মনে অহঙ্কার জাগে!'
September 2, 2013 ("সাধু হো তো য়্যাসা")
Wednesday, January 27, 2016
"অশ্বত্থামা" ---
পূর্বকালের ঋষিরা কেবল ব্রহ্মের ধ্যানে নিমগ্ন থাকাকে একমাত্র ব্রত বলে ভাবতেন না। ঞ্জান বিঞ্জানের সকল স্তরে অবাধে বিচরণ করে গবেষণা করে নতুন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করাও তাঁদের ব্রতের অঙ্গ ছিল। সুপ্রাচীন যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্রাচার্য ও বহু বিশ্ব বিধ্বংসী অস্ত্রের আবিষ্কারক ছিলেন ঋষি ভরদ্বাজ। তাই বলে তপস্যায় তিনি কোন ঋষির চেয়ে কম ছিলেন না। ঋগ্বেদের ৬ষ্ঠ মণ্ডলের এক থেকে ত্রিশ সূক্ত পর্যন্ত প্রায় ৪৫৬ টি মন্ত্রের তিনি ছিলেন দ্রষ্টা।
ঋষি ভরদ্বাজের পৌত্র, কুরু পণ্ডবের অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্যের পুত্র ছিলেন অশ্বত্থামা। অশ্বত্থামার মায়ের নাম কৃপী, কৃপাচার্যের ভগিনী। জন্মমাত্রই নবজাতক উচ্চৈঃস্বরে অশ্বের মত হ্রেষা রব করেছিলেন বলে ইনি অশ্বত্থামা নামে অভিহিত হন।
অশ্বত্থামা, পিতা দ্রোণাচার্যের কাছে অস্ত্রশিক্ষা করেছিলেন এবং অনেক মারাত্মক গুহ্য অস্ত্রের প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত হন। পিতার কাছ থেকেই তিনি নারায়ণ প্রদত্ত নারায়ণাস্ত্র এবং ব্রহ্মশির অস্ত্র লাভ করেছিলেন। পাণ্ডবদের বনবাস কালে অশ্বত্থামা দ্বারকায় গিয়ে যুদ্ধে অজেয় হবার অভিপ্রায়ে ব্রহ্মশির অস্ত্রের বিনিময়ে কৃষ্ণের কাছ হতে সুদর্শন চক্র প্রার্থনা করেন। কিন্তু সুদর্শন চক্র উত্তোলন করতে অক্ষম হওয়ায় বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে আসেন।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অশ্বত্থামা পিতার সঙ্গে কৌরব পক্ষে যোগ দেন। যুদ্ধে ধৃষ্টদ্যুম্ন কতৃক দ্রোণাচার্যের জঘন্য ভাবে শিরচ্ছেদের পর সেই শোচনীয় দৃশ্য দেখে অশ্বথামা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি পাণ্ডবদের সবংশে এবং সসৈন্যে সংহার করার জন্য নারায়ণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বসেন। নারায়ণাস্ত্রের মহিমা এই যে, সশস্ত্র যে কোন মহাবীর ঐ অস্ত্রকে রুখবার জন্য আস্ফালন বা challenge করলেই অস্ত্র তাকে ভস্মীভূত করে ফেলে। কিন্তু কৃষ্ণের উপদেশে সকলেই রথ থেকে নেমে নিরস্ত্র অবস্থায় নিক্ষিপ্ত প্রলয়ঙ্কর মহাস্ত্রের দিকে পিছন ফিরে নতশির হতেই, অস্ত্রে কারও কোন ক্ষতি হল না। পাণ্ডবরা অনিবার্য মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেন। অশ্বত্থামার পিতৃশোক কিছুতেই প্রশমিত হল না।
দুর্যোধনের উরুভঙ্গের পর হতাবশিষ্ট কুরুসৈন্যের সেনাপতি হন অশ্বত্থামা। তিনি ঐ সময় একদিন গুপ্তভাবে মাতুল কৃপাচার্য এবং কৃতবর্মাকে সঙ্গে নিয়ে পাণ্ডব শিবিরে প্রবেশ করে পিতৃহন্তা ধৃষ্টদ্যুম্ন, উত্তমৌজা, যুধামন্যু, শিখণ্ডী ও দ্রোপদীর পাঁচ পুত্রসহ আরও অনেক পাণ্ডব সৈন্যকে হত্যা করে আসেন। সেইসময় পঞ্চপাণ্ডব, শ্রীকৃষ্ণ ও সাত্যকি সেখানে না থাকায় তাঁরা ঐ গুপ্ত হত্যার হাত থেকে কোন মতে রক্ষা পান। পুত্রশোকে দ্রৌপদী প্রয়োপবেশন আরম্ভ করেন এবং ভীমকে বলেন, অশ্বত্থামাকে নিহত করে তার মাথার সহজাত মণি না পেলে তিনি কিছুতেই প্রয়োপবেশন ভঙ্গ করবেন না।
তখন ভীম অশ্বত্থামাকে হত্যা করার জন্য অর্জুন ও যুধিষ্ঠিরকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন অশ্বত্থামার খোঁজে। তাঁরা দেখলেন অশ্বত্থামা ব্যাস ও অন্যান্য ঋষিদের মধ্যে লুকিয়ে আছেন। পাণ্ডবরা সেখানেই তাঁকে আক্রমণ করলেন। আক্রান্ত অশ্বত্থামা তখন ব্রহ্মশির অস্ত্র প্রয়োগের ইচ্ছা করে একটি ঈষিকা অর্থাৎ কাশতৃণ মন্ত্রপুত করে নিক্ষেপ করলেন। অর্জুনও তখন ব্রহ্মশির নিক্ষেপ করলেন। দুই অস্ত্রের সংঘাতে প্রলয়ের আশঙ্কায় ব্যাস এবং নারদ এসে দুই অস্ত্র হতে নিঃসৃত অগ্নুদ্গীরণের মধ্যে দাঁড়ালেন এবং উভয়কে অস্ত্র প্রত্যাহার করে নিতে নির্দেশ দিলেন।
ঋষিদের নির্দেশে অর্জুন 'ব্রহ্মশির' প্রত্যাহার করে নিতে পারলেন বটে কিন্তু অশ্বত্থামা অস্ত্র সংবরণে অপারগ হলেন। তিনি সেই অস্ত্র অভিমন্যুর পত্নী উত্তরার গর্ভে নিক্ষেপ করে বসলেন। ফলে গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয় কিন্তু পরে কৃষ্ণ যোগবলে শিশুকে পুনর্জীবিত করে তোলেন। এইভাবে অশ্বত্থামা পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে তাঁর মাথার সহজাত মণি পাণ্ডবদের হাতে তুলে দিয়ে বনে গমন করেন।
সারা ভারতবর্ষে এত পাহাড় পর্বত অরণ্য থাকতেও পিতৃগত প্রাণ অশ্বত্থামা মোক্ষদাত্রী সিদ্ধিদায়িনী নর্মদার দক্ষিণতটের শূলপাণির ঝাড়িকে তাঁর বসবাসের শ্রেষ্ঠ স্থান হিসাবে নির্বাচন করে নিয়েছিলেন, এতে তাঁর অর্ন্তদৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যায়। নর্মদাতটের এই ক্ষেত্রটি ------ অশ্বত্থামার সাধন-গুহা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191
www.twitter.com/tapobhumi30
www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com
Monday, January 18, 2016
Wednesday, January 6, 2016
"নমঃ পিত্রে জন্মদাত্রে সর্ব দেবময়ায় চ।
সুখদায় প্রসন্নায় সুপ্রীতায় মহাত্মনে।।
সর্ব যঞ্জ-স্বরূপায় স্বর্গায় পরমেষ্ঠিনে।
সর্ব তীর্থাবলোকায় করুণা-সাগরায় চ।।
পিত্রে তুভ্যং নমো নিত্যং সদারাধ্যতমাঙ্ঘ্রয়ে।
বিমলঞ্জানদাত্রে চ নমস্তে গুরুবে সদা।।
নমস্তে জীবনাধিক্যদর্শিনে সুখহেতবে।
নমঃ সদাশুতোষায় শিবরূপায় তে নমঃ।।
সদাপরাধক্ষমিণে সুখদায় সুখয়ে চ।
দুর্লভং মনুষ্যমিদং যেন লব্ধং ময়া বপুঃ।
সম্ভাবনীয়ং ধর্ম্মার্থে তস্মৈ পিত্রে নমো নমঃ।।"
Friday, January 1, 2016
Monday, December 28, 2015
Friday, December 11, 2015
"মহাযোগিনী পাগলীমা" ---
মেদিনীপুর শহর থেকে দশ-বারো মাইল দূরে ধলহারা নামক গ্রামে শ্রীশ্রী পাগলীমা নামে এক যোগসিদ্ধা মা ছিলেন। তাঁর অলৌকিক যোগবিভূতি ছিল। প্রতিদিনই তাঁর কাছে হাজার হাজার লোক যেত ভাগ্য গণনা করতে। তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেই তিনি নাম, ধাম, কে কিজন্য এসেছে, কোন সমস্যায় পড়ে এসেছে, তার প্রতিকারই বা কি, তা তিনি গড়গড় করে বলে দিতেন। মনে হত, ভক্ত তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তাঁর সমগ্র জীবনপট তাঁর সামনে যেন আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে গেছে। তিনি কেবল দেখছেন আর বলে যাচ্ছেন। এমনকি তাঁর কাছে আসতে আসতে ভক্ত কোথায় কোথায় বিশ্রাম করেছিল বা কার সঙ্গে কি কি কথা বলেছিল, তাও তিনি বলে দিতে পারতেন। সারা মেদিনীপুর জেলা জুড়ে তাঁর নাম ছিল। তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার কথা ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বাংলাদেশ জুড়ে। কলকাতায় তাঁর অজস্র ধনী মানী ভক্ত ছিল।
তাঁর পূজিত অষ্টধাতু নির্মিত ন'ইঞ্চি দীর্ঘ একটি গৌরী মূর্তি ছিল। শ্রীশ্রী গৌরীই ছিলেন তাঁর ইষ্টদেবী। তাঁর গৌরী পূজার রীতিও ছিল বিচিত্র।
একটা ছোট্ট তামার বাটিতে ছটাক খানিক মধু নিয়ে তিনি মন্দিরে ঢুকতেন ঠিক বেলা ১২ টায়। ঢুকেই অশ্লীল ভাষায় গালি পাড়তেন গৌরীর উদ্দেশ্যে। তারপর আঙুলে করে মধু তুলে তুলে গৌরীমূর্তির ঠোঁটে ঠেকাতেন আর সেখানে সঙ্গে সঙ্গে চুক করে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠত। হাজার হাজার ভক্তের সামনেই এই ঘটনা নিত্য ঘটত।
১৯৫০ সালের বাসন্তী পূজার দিন তিনি যোগাসনে বসে মহাসমাধিতে প্রবেশ করেন। মৃত্যুর ১৫ দিন আগে থেকে তিনি তাঁর দেহান্তের তিথি, বার ও ক্ষণ সকল ভক্ত শিষ্যদের কাছে পূর্বাহ্নেই জানিয়ে দিয়েছিলেন।
www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com
www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191
www.twitter.com/tapobhumi30
Friday, November 27, 2015
"শ্রীরুদ্রহৃদয়োপনিষৎ মন্ত্রের ব্যাখ্যা : ---
Cont ...... (Last)
16. নিত্য, ব্যাপক, সর্বগত, সূক্ষ্মতম ও ব্যয় রহিত সর্বভূতের উৎপত্তি স্থান-স্বরূপ অদৃশ্য, অগ্রাহ্য, গোত্রহীন, রূপ বিহীন, চক্ষু-কর্ণ-হস্ত-পদপরিহীন আত্মাকে ধীরগণ আত্মাতেই অবলোকন করে থাকেন।
17. যিনি সর্বঞ্জ ও বিশেষতঃ সর্ববিৎ, যাঁহার তপ ঞ্জানময় সেই পরম পুরুষ হতে অন্নাদি ভোগ্যরূপে জগৎ আবির্ভূত হয়।
18. রজ্জুতে যেমন সর্পভ্রম হয়, সেই রকম পরম পুরুষে সর্পভানের মত জগদ্ভান হয়। রজ্জু সর্প বস্তুতঃ মিথ্যা হলেও যেমন সত্য বলে প্রতিভাত হয়, তেমনই জগৎ মিথ্যা হলেও সত্যরূপে আভাসিত হয়। জগতের অধিষ্ঠান স্বরূপ সেই পরমাত্মা সত্য, তাঁকে জানলেই ভবপাশ হতে মুক্ত হওয়া যায়।
19. তত্ত্বঞ্জানের দ্বারাই সংসার ভ্রমের বিনাশ হয়, কর্মের দ্বারা নয়। ঞ্জানার্থী, ব্রহ্মনিষ্ঠ শ্রোত্রিয় অর্থাৎ শ্রুতিশাস্ত্রবিদ্ গুরুর নিকট গমন করেন গুরু সেই ঞ্জানার্থী শিষ্যকে ব্রহ্মাত্মবোধিনী পরাবিদ্যা দান করেন।
20. লোকে যদি সেই গুহা নিহিত পরব্রহ্মকে জানতে পারে, তবে অবিদ্যারূপ মহাগ্রন্থি ছেদ করে সনাতন শিব পরমাত্মাকে প্রাপ্ত হয়। এই আত্মা প্রাপ্তি বা আত্মাঞ্জান লাভই অমৃত বা মুক্তি। মমুক্ষুগণের এইটাই একমাত্র বোদ্ধব্য।
21. প্রণব ধনুঃ-স্বরূপ, জীবাত্ম শর বা বানস্বরূপ, ব্রহ্ম লক্ষ্যস্বরূপ। শর যেমন ধনুর সাহায্যে লক্ষ্যে ডুবে তন্ময় হয়ে যায়, জীবও সেই রকম অপ্রমত্তভাবে শিবোপাসনার সাহায্যে শিব লক্ষ্যে শরবৎ তল্লীন হয়। লক্ষ্য শিব সর্বগত, বেদ্ধা সাধকও সর্বগত, এই লক্ষ্য শিব সান্নিধ্য লাভের উপায়, তাতে কোন সংশয় নেই।
22. যেখানে চন্দ্র, সূর্যের প্রকাশ নেই, বায়ুর প্রবাহ নেই, দেবগণের দীপ্তি নেই, সেই পরম দীপ্তিময় সর্বভাব স্বরূপ বিরজঃ বিশুদ্ধ শিবতত্ত্ব স্বয়ং-ই প্রকাশ পেয়ে থাকেন।
23. দেহ বৃক্ষে দুটি পক্ষী বাস করে। একটি জীব, অন্যটি ঈশ। জীব কর্মফল ভোগ করে আর যিনি ঐশী সত্তা তিনি ভোগ করেন না, কেবল সাক্ষিরূপে বিরাজ করেন। ভোগ নিবৃত্ত হলেও জীবই ঈশ্বর শিব বা সাক্ষীরূপে প্রকাশ পান। জীব ও ঈশ্বরের যে ভেদ, সেটা যথার্থ নয়, মায়ার দ্বারা তা কল্পিত। যেমন ঘটাকাশ এবং মহাকাশ বস্তুতঃ ভিন্ন নয়, উপাধি বশে ভিন্নরূপে কল্পিত; সেইরূপ জীব ও শিব অভিন্ন, কিন্তু মায়োপাধি দ্বারা ভিন্নরূপে কল্পিত হন।
24. প্রকৃতপক্ষে শিব সাক্ষাৎ চিৎস্বরূপ, জীবও স্বয়ং স্বরূপতঃ সতত চিন্মাত্র। চিৎ চিদাকার হতে ভিন্ন এরূপ বলা যায় না কারণ চিৎ-এ ভেদ থাকলে চিৎ-এর বা চৈতন্য স্বরূপেরই হানি স্বীকার করতে হয়। অতএব চিৎ স্বরূপ শিব চিদাকার জীব হতে স্বরূপতঃ ভিন্ন নয়।
চিৎ-এ ভেদ না খাকুক, জড়ে জড়ে ত ভেদ আছে, এ কথাও বলা যায় না কারণ ভেদ জড়েই থাকবে, চিৎ-এ নয়। কারণ চিৎ জড় নয়,বস্তু।জড় অবস্তু। জড়ে জড়ে ভেদ থাকে থাকুক, কিন্তু চিৎ-এ চিৎ-এ ভেদ নেই। সব চিৎ-ই এক। সুতরাং এক চিৎ-ই প্রকাশ পায়। তর্ক ও প্রমাণ দ্বারা এইরূপে চিৎ-এর একত্ব ব্যবস্থাপন পূর্বক চিৎ-এর একত্ব সম্যক রূপে অনুভব করতে পারলে শোক মোহ আদি অপগত হয়।
25. চিৎ-এর একত্ব অনুভব করতে পারলে সাধক জগতের অধিষ্ঠান-স্বরূপ সত্যঞ্জানময় পরমানন্দ স্বরূপ অদ্বৈত শিবসুন্দরকে তবেই লাভ করতে পারেন।
26. অহমস্মি অর্থাৎ আমি সেই আত্মা এইরকম নিশ্চয় করে, মননশীল সাধক শোক হতে মুক্ত হন। নির্দোষ সাধকরা স্বদেহেই জ্যোতিঃস্বরূপ বিশ্বসাক্ষী পরমাত্মাকে দর্শন করে। মায়ামুগ্ধ অঞ্জ জনগণ দেখতে পায় না।
27. এইরূপে যে পরমযোগী আত্ম দর্শন বা আত্মঞ্জান লাভ করেন, সেই পূর্ণ স্বরূপের আত্মা গতাগতি বা লোকান্তর গমন অর্থাৎ জন্মগ্রহণ নিতে বিড়ম্বিত হতে বাধ্য হন না।
আকাশ যেমন স্বয়ংই সম্পূর্ণ, ঞ্জানীও তেমনি স্বয়ং সম্পূর্ণ। আকাশ যেমন গমন করেন না। ঞ্জানীও সেইরকম সর্বময়ত্ব লাভ করে কোথাও গমন করেন না। কারণ তিনি সর্বব্যাপক ব্রহ্ম হয়ে যান। যে মননশীল সাধক পরমব্রহ্মকে অবগত হন, তিনি স্বয়ংই সচ্চিদানন্দ ব্রহ্মে আত্মস্থ হন।।"
www.twitter.com/tapobhumi30
www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191
www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com
শ্রীরুদ্রহৃদয়োপনিষৎ মন্ত্রের ব্যাখ্যা :---
1. অবনত মস্তকে ব্যাসদেবের চরণে প্রণাম পূর্বক শুকদেব জিঞ্জাসা করিলেন, দেব! কোন্ দেব সর্বদেবে বিরাজমান? কোন দেবের সেবা করলে সকল দেবতার প্রীতি জন্মে, দয়া করে আমাকে বলুন।
2. শুকদেবের এই কথা শুনে পিতা ব্যাসদেব শুককে প্রত্যুত্তর দিতে আরম্ভ করলেন। বললেন, ভগবান রুদ্র সর্বদেবাত্মক এবং সকল দেবতাই শিবাত্মক।
3. রুদ্রের দক্ষিণ পার্শ্বে রবি, ব্রহ্মা ও গার্হপত্য, আহবনীয় এবং দক্ষিণাগ্নি নামক তিন রকমের অগ্নি অধিষ্ঠিত। রুদ্রের বাম পার্শ্বে দ্যোতনশীলা উমা, বিষ্ণু এবং সোম এই ত্রিমূর্তি সমাশ্রিত। যিনি উমা তিনি স্বয়ং বিষ্ণু। যিনি বিষ্ণু তিনিই চন্দ্রমা।
4. যারা গোবিন্দকে নমস্কার করে, তারা শঙ্করকেই নমস্কার করে। যারা ভক্তি সহকারে হরিকে অর্চনা করে, তারা বৃষধ্বজ রুদ্রেরই অর্চনা করে। যারা বিরুপাক্ষ শিবের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তারা জনার্দনকেই বিদ্বেষ করে। যারা রুদ্রকে জানে না, তারা কেশবকেও জানে না।
5. রুদ্র হতে বীজ প্রবর্তিত হয়। জনার্দন সে বীজের যোনি স্বরূপ। যিনি রুদ্র, তিনিই ব্রহ্মা, যিনি ব্রহ্মা তিনিই অগ্নি।
6. রুদ্র ব্রহ্মা বিষ্ণুময়। জগৎ অগ্নিষোমাত্মক। পুংলিঙ্গ সমস্তই শিব, স্ত্রীলিঙ্গ সকলই উমা। স্থাবর জঙ্গমাত্মক জগৎ সমস্তই শিবশক্ত্যাত্মক। ব্যক্তরূপ সমস্তই উমা, আর অব্যক্ত রূপ মাত্রই পরমেশ্বর রুদ্র। উমা এবং শঙ্করের যে যোগ, সেই যোগই বিষ্ণু নামে কথিত হয়।
7. যে ব্যক্তি ভক্তি সহকারে রুদ্রকে নমস্কার করে সে আত্মা, অন্তরাত্মা এবং পরমাত্মাকে অবগত হয়ে পরমাত্মারই আশ্রয় গ্রহণ করে।
8. ব্রহ্মা অন্তরাত্মা, মহেশ্বর পরমাত্মা এবং বিষ্ণুই সর্বভূতের সনাতন আত্মা।
9. বিটপশালী ভূমিশাখ উর্ধ্বমূল সংসার-বৃক্ষের অগ্র, মধ্য ও মূল বিষ্ণু, ব্রহ্মা ও রূদ্র।
10. বিষ্ণু কার্য, ব্রহ্মা ক্রিয়া এবং মহেশ্বর কারণ। প্রয়োজনানুসারে রুদ্র এই ত্রিমূর্তি ধারণ করেছেন। রুদ্র ধর্মস্বরূপ, বিষ্ণু জগদাত্মক, পিতামহ ব্রহ্মা সর্বঞ্জানাত্মক।
11. ত্রিমূর্তিস্বরূপ ভগবানকে যে 'শ্রীরুদ্র', 'রুদ্ররুদ্র' নামে অভিহিত করে সে ব্যক্তি বিচক্ষণ। যে ব্যক্তি 'রুদ্র' নাম কীর্তন করে, সে সকল পাপ হতে মুক্ত হয়।
12. রুদ্র নররূপী, উমা নারীরূপা, সেই রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র ব্রহ্মা স্বরূপ এবং উমা বাণীস্বরূপা, সেই ব্রহ্মা ও বাণীরূপ রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র বিষ্ণু স্বরূপ ও উমা লক্ষ্মীরূপা, সেই বিষ্ণু ও লক্ষ্মীরূপা রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র সূর্যস্বরূপ, উমা ছায়ারূপা, সূর্য ও ছায়ারূপ রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র দিবাস্বরূপ, উমা রত্রিরূপা, সেই দিন ও রাত্রিরূপ রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র যঞ্জরূপী, উমা বেদিস্বরূপা; সেই যঞ্জ ও বেদিরূপ রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র বহ্নিস্বরূপ, উমা স্বাহারূপা, সেই অগ্নি ও স্বাহারূপ রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র বেদরূপী, উমা বিদ্যারূপা; সেই বেদ ও বিদ্যারূপ রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র বৃক্ষস্বরূপ, উমা লতারূপিনী, সেই বৃক্ষ ও বল্লীরূপ রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র গন্ধস্বরূপ, উমা পুষ্পরূপা, গন্ধ ও পুষ্পরূপ রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র অর্থস্বরূপ, উমা অক্ষররূপা, সেই অর্থ ও অক্ষররূপ রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
রুদ্র লিঙ্গরূপী, উমা গৌরী পীঠরূপা, সেই লিঙ্গ ও পীঠরূপ রুদ্র ও উমাকে নমস্কার করি।
13. সর্বদেবাত্মক রুদ্রের স্বতন্ত্র রূপকে পৃথক পৃথক মন্ত্রে নমস্কার করবে। যে যে স্থানে রুদ্র ও উমা অর্থাৎ শিবশক্তি --- লিঙ্গমূর্তিসহ গৌরীপীঠের অর্চনা করবে, সেই সেই স্থানে এই মন্ত্র প্রযুক্ত হবে। বিশেষতঃ ব্রহ্মহত্যায় লিপ্ত ব্যক্তিও যদি জলের মধ্যে অবস্থান করে এই মন্ত্র উচ্চারণ করে, সে সর্বপাপ হতে মুক্তি লাভ করবে।
14. সকলের অধিষ্ঠানভূত দ্বন্দ্বতীত সনাতন নিত্যঞ্জান --- সুখস্বরূপ বাক্যমনের অগোচর পরব্রহ্ম সেই রুদ্রই। ব্রহ্মস্বরূপ রূদ্রকে জানলে এ সংসারের সমস্তই পরিঞ্জাত হয়। কারণ, সেই রুদ্রই বিশ্বাত্মক, রুদ্র ভিন্ন এ সংসারে অপর কিছুই নেই।
15. এ সংসারে বেদিতব্য বিদ্যা দুটি --- পরাবিদ্যা ও অপরা বিদ্যা। যে বিদ্যা দ্বারা অক্ষয় স্বরূপ পরমাত্মা প্রকাশিত হন, সেই ব্রহ্মবিদ্যা বা আত্মবিদ্যাই পরাবিদ্যা। ঋগ্বেদ, যর্জুবেদ, সামবেদ, অর্থববেদ, শিক্ষাকল্প ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ ও জ্যোতিষ এবং অনাত্ম বিষয়ক অপরাপর সমস্ত ঞ্জানই অপরা বিদ্যা।
To be continued ......
Wednesday, November 18, 2015
"হংসবতী ঋক" ---
হংস বিদ্যা হল প্রকৃত পরমাত্মা বিদ্যা। 'হংস' মন্ত্রের মূল অনুসন্ধান করতে হলে বৈদিক যুগের ঋষিদের সাধন রহস্যের সন্ধান করতে হয়।
ওঁ হংসঃ শুচিষৎ বসুঃ অন্তরিক্ষসৎ হোতা বেদিষৎ অতিথিঃ দুরোৎসৎ।
নৃষৎ বরসৎ ঋতসৎ ব্যোমসৎ অব্জা গোজা ঋতজা অদ্রিজা ঋতম্।। ওঁ
1. হংসঃ = পরমাত্মা
2. শুচিষৎ = শুদ্ধ-সত্ত্ব-স্বরূপ
3. বসু = সর্বত্র সমভাবে বিদ্যমান
4. অন্তরিক্ষসৎ = সাক্ষীরূপে জীবমাত্রের অন্তরে অবস্থিত
5. হোতা = যজমান স্বরূপ
6. বেদিষৎ = কেবলমাত্র ঞ্জানগম্য
7. অতিথিঃ = স্বপ্রকাশ স্বরূপ
8. দুরোৎসৎ = পূর্ণ ব্রহ্ম হয়েও জীবরূপে এবং ব্রহ্মাণ্ড রূপে প্রতীত অর্থাৎ বিশ্বাতীত হয়েও বিশ্বরূপ
9. নৃষৎ = চিতিশক্তি রূপে জীবমাত্রেই অবস্থিত
10. বরসৎ = সকলের বরণীয় বা পূজ্য
11. ঋতসৎ = অভেদে ঋতম্ এ অবস্থিত
12. ব্যোমসৎ = বিশ্বকাশব্যাপী
13. অব্জা, 14. গোজা = জলজ ও স্থলজ প্রভৃতি সর্বপ্রাণীরূপে বিরাজিত
15. ঋতজা = সর্বত্র সত্য রূপে পরিদৃশ্যমান
16. অদ্রিজা = আদিত্য রূপে বিরাজিত
17. ঋতম্ = সর্বাধিষ্ঠান সত্য ব্রহ্মতত্ত্ব স্বরূপ
এইভাবে মুখ্যতঃ ও গৌণতঃ হংসবতী ঋক মন্ত্রের সকল পদেরই ভাবার্থ দাঁড়ায় নিরপেক্ষ চরমতত্ত্ব সচ্চিদানন্দ স্বরূপ ব্রহ্ম। মহা চিন্ময় হংস মন্ত্রের মূলবীজ রয়েছে হংসবতী ঋকে। হংস শব্দ পরমাত্মা অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
এইভাবে মুখ্যতঃ ও গৌণতঃ হংসবতী ঋক মন্ত্রের সকল পদেরই ভাবার্থ দাঁড়ায় নিরপেক্ষ চরমতত্ত্ব সচ্চিদানন্দ স্বরূপ ব্রহ্ম। মহা চিন্ময় হংস মন্ত্রের মূলবীজ রয়েছে হংসবতী ঋকে। হংস শব্দ পরমাত্মা অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
একো হংসো ভুবনস্যাস্য মধ্যে, স এবাগ্নি সলিলে সন্নিবিষ্টঃ।
তমেব বিদিত্বাতিমৃত্যুমেতি নান্যঃ পন্থা বিদ্যতেহয়নায়।।
অর্থাৎ এই পৃথিবীর মধ্যে এক পরমাত্মাই আছেন, আর কিছু নেই। তিনি প্রত্যেকের দেহে জীব চৈতন্যরূপে স্থিত আছেন। জল ও অগ্নির একত্র স্থিতি যেমন স্বভাব বিরুদ্ধ হয়েও বাড়বানল প্রভৃতিতে দৃষ্ট হয়, তেমনি পরমাত্মারও এই মায়াময় জগতে একত্র অবস্থিতি স্বভাব বিরুদ্ধ হলেও প্রত্যক্ষ দৃষ্ট হয়। পরমাত্মা তত্ত্বতঃ জীবজগৎ হতে নিরপেক্ষ হলেও জীবজগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই পরমাত্মাকে স্ব স্বরূপ বলে জানতে পারলে তবেই জীব মৃত্যুকে অতিক্রম করতে পারে। মুক্তির অপর কোন উপায় নেই।
বৈদিক ঋষিগণ প্রায় প্রত্যেকেই প্রাতঃকালে নবোদিত সূর্যকে অর্থাৎ ভর্গদেবতাকে হংসবতী ঋক মন্ত্র পাঠ করতে করতে দর্শন করতেন।
মহর্ষি শৌনক প্রণীত ঋগ্ বিধান গ্রন্থে তিনি বিধান দিয়েছেন --- শুচি হয়ে হংসবতী ঋক মন্ত্র পাঠ করে সূর্য দর্শন করবে। মৃত্যুকালে এই ঋক মন্ত্র জপ করলে শাশ্বত ব্রহ্মলোক প্রাপ্তি হয়। শুধু তাই নয়, মহর্ষি শৌনক আরও বিধান দিয়েছেন --- যে ব্যক্তি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত সেই ব্যক্তি যদি বিষ্ণু মন্দিরে এই মন্ত্র জপ করলে এবং এই মন্ত্রে অর্ঘ্য প্রদান করলে কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তিলাভ করে এবং সুবর্ণকান্তি লাভ করে।
হংসবতী ঋক মন্ত্র হংসযোগ সাধনার প্রাণ হলেও হংস মন্ত্রের চৈতন্য ঘটে রূদ্র-হৃদয়োপনিষদের মন্ত্রতে।
www.twitter.com/tapobhumi30
www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com
www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191
www.twitter.com/tapobhumi30
www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com
www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191
Wednesday, November 11, 2015
"অজপা গায়ত্রী দীক্ষা বা হংস- মন্ত্রের সাধনা" ---
গুরু গোরক্ষনাথ এই গুহ্যসাধন পদ্ধতির সঙ্কেত বলতে গিয়ে বলেছেন ------
"'হং' কারেণ বর্হিযাতি 'স' কারেণ বিশেৎ পুনঃ।
হংস- হংসেতি অমুং মন্ত্রং জীবো জপতি সর্বদা।।
ষট্শতানি দিবারাত্রৌ সহস্রাণ্যেক বিংশতিঃ।
এতৎ সংখ্যান্বিতং মন্ত্রং জীবো জপতি সর্বদা।।
অজপা নাম গায়ত্রী যোগিনাং মোক্ষদায়িনী।
তস্যাঃ স্মরণমাত্রেণ সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে।।"
নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সময়ে 'হং' শব্দের সঙ্গে বায়ু বাইরে আসে এবং 'স' শব্দের সঙ্গে পুনরায় প্রবেশ করে। জীব স্বভাবতঃ সর্বদাই হংস মন্ত্র জপ করছে। দিবা-রাত্রিতে 21600 বার প্রত্যেকেই এই মন্ত্র জপ করে। (প্রতি মিনিটে 15 বার শ্বাস-প্রশ্বাস হয় এই হিসাবে 24 X 60 X 15 = 21600 বার) প্রত্যেক শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে যে হংস জপ চলছে, তা যদি মনোযোগের সঙ্গে শ্বাস প্রশ্বাসের গতি লক্ষ্য করে অনুভব করতে অভ্যাস করা যায়, তবে অজপা নামক গায়ত্রীর সাধন হয়। ঠোঁট, জিহ্বা বা মনের সাহায্যে বিশেষ কোন বীজমন্ত্রকে বারবার উচ্চারণ করে এই জপ করা হচ্ছে না, তাই এর নাম অজপা।
অজপা গায়ত্রী যোগীগণের মোক্ষদায়িনী। সিদ্ধ মহাপুরুষ ছাড়া আর কারও পক্ষে এই কৌশল ধরবার এবং সেই পথে চালনা করবার ক্ষমতা নেই।
শ্বাস-প্রশ্বাস অহরহ আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে হংস মন্ত্রের তাৎপর্য 'অহংস' --- সোহহং অর্থাৎ আমি স্বরূপতঃ ব্রহ্ম। শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগের মধ্যবর্তী ক্ষণে স্বভাবতঃ আমরা ব্রহ্মত্ব প্রাপ্ত হই। হংস অর্থাৎ পরমাত্মা শিব চৈতন্যই প্রত্যেকের পাঞ্চভৌতিক দেহে অবস্থান করে। জীব চৈতন্য হংস নামে কথিত হয়। 'হন্তি গচ্ছিন্তি কৃৎস্ন - শরীরং ব্যাপ্য বর্ততে ইতি হংসঃ প্রাণঃ জীবচৈতন্যম্' অর্থাৎ সমস্ত শরীর ব্যেপে বর্তমান থাকেন এবং এক শরীর হতে অন্য শরীরে সংসরণ করে এই ব্যুৎপত্তিগত অর্থেও জীব চৈতন্য হংস নামে সংঞ্জিত হয়।
বুদ্ধিপূর্বক শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুসরণ করে এই ভাবটি স্মরণ করতে করতে স্থায়ী করবার চেষ্টাই এই সাধনার উদ্দেশ্য। অন্তর্দর্শী গুরুর নিকট বসে শ্বাস গ্রহণ ও বর্জনের মধ্যবর্তী ক্ষণটি ধরার কৌশল জেনে নিতে হয়। হংস যোগের সাধনায় সিদ্ধিলাভ করতে হলে "হংসবতী ঋক" এবং "শ্রীরূদ্রহৃদয়োপনিষৎ" এর মন্ত্রগুলিকে নিত্যপাঠ করতে হয়, মন্ত্রের মর্মার্থ ও প্রতিদিন মনন করতে হয়।
হংসবতী ঋকের হংস পদই ক্রমশঃ জপ্য মন্ত্রে পরিণত হয়। যোগশাস্ত্রে এবং শৈবাগমতন্ত্রে হংস মন্ত্রকেই অজপা বলা হয়। হংসবতী ঋক মন্ত্রে 'হংস' পদ এবং আথর্বণী শ্রুতি এবং শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের 'হংস' পদ হল বৈদিক মূল। শৈবাগমের অন্তর্গত সারদা তিলক তন্ত্রে হংস মন্ত্রের ইষ্ট দেবতাকে অর্ধনারীশ্বর রূপে কল্পনা করা হয়েছে।
www.twitter.com/tapobhumi30
www.anandatapobhuminarmada.blogspot.com (Hindi)
www.facebook.com/pages/tapobhuminarmada/454528151310191
Subscribe to:
Posts (Atom)


